হোম আন্তর্জাতিক দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান জোরালো করতে চায় তুরস্ক

দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান জোরালো করতে চায় তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক 23 Jan, 2021 5:01 PM

দক্ষিণ-এশিয়ায়-অবস্থান-জোরালো-করতে-চায়-তুরস্ক-2021-01-23-600c0210e5b14.jpg

গত দুই মাসের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় দুবার সফর করে গিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু। এসব সফর চলাকালে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে তার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে এসেছে, নিজস্ব ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের অবস্থান জোরালো করে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছে আঙ্কারা।

এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টে এশিয়াকে কেন্দ্র করে ‘এশিয়া আ নিউ’ উদ্যোগ হাতে নেয় তুরস্ক। মেভলুত চাভুসোগলু প্রণীত এ পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এ পদক্ষেপ সফল হলে গোটা মহাদেশেই তুরস্ক আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন চাভুসোগলু ও তার সহযোগীরা।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কার্যক্রম বলছে, ‘এশিয়া আ নিউ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ওপরই তার মনোযোগ এখন সবচেয়ে বেশি। তুরস্কের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদেও এ কথারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এখন। সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, তুরস্কের এশিয়াবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিতে এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো; বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান গুরুত্ব পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অতীতে খারাপ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ মনকষাকষি চলছে আঙ্কারা ও নয়াদিল্লির।

দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের আগ্রহী হয়ে ওঠার পেছনে এখন পর্যন্ত বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন পর্যবেক্ষক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর পেছনে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ অনেক কারণই প্রভাব ফেলেছে। প্রথমত, সমসাময়িক বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ভরকেন্দ্র এখন অনেকটাই প্রাচ্যের দেশগুলোয় সরে এসেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দেশগুলো এখন বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ক্রমেই শক্তিসঞ্চার করে চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাবক হিসেবে এসব দেশের ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুরস্ককে এ পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণে বাধ্য করছে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব এখন ক্রমেই পড়তির দিকে।

উপরন্তু এসব দেশের সঙ্গে গত কয়েক বছরে আঙ্কারার দূরত্বও অনেক বেড়েছে। বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে এ পরিবর্তনের কারণেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন মেভলুত চাভুসোগলু। এদিক থেকে তিনি বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে একদিকে যেমন সুসম্পর্ক তৈরিতে প্রয়াসী হয়েছেন, তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীন ও ভারতের মধ্যকার আঞ্চলিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও বৈরী পরিস্থিতিকেও কাজে লাগাতে চাইছেন।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ