হোম ফিচার জানেন কি? এমন এক প্রজাতির চিংড়ি রয়েছে যারা লাথি ও ঘুষি দিয়েই শিকার ধরে!

জানেন কি? এমন এক প্রজাতির চিংড়ি রয়েছে যারা লাথি ও ঘুষি দিয়েই শিকার ধরে!

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 08 Mar, 2021 7:53 PM

চ্যাম্পিয়ন-বক্সার-ম্যান্টিস-চিংড়ি-2021-03-08-60462c664e44a.jpg

হরেক রকম চিংড়ির প্রজাতির সাথে আমাদের পরিচয় থাকলেও এর মধ্যে এমন এক প্রজাতির চিংড়ি রয়েছে যার পরিচয় আমাদের অনেকেরই অজানা। এই প্রজাতির চিংড়ি এতোটাই শক্তিশালী এবং বিষাক্ত যা কল্পনাতীত।

আজ আমরা এমনই এক প্রজাতির চিংড়ি সম্পর্কে  জানবো যারা কি না এতোটাই শক্তিশালী এবং যাদের আঘাত বুলেটের চেয়েও মারাত্মক। যাদেরকে চ্যাম্পিয়ন বক্সার বললেও মন্দ হবে না।

পৃথিবীতে বহুপ্রজাতির প্রাণী রয়েছে। যাদের অধিকাংশই শিকার ধরার কাজে দাঁত ও নখ ব্যবহার করে থাকে। তবে এক প্রজাতির চিংড়ি রয়েছে যারা লাথি ও ঘুষি দিয়েই শিকারকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সক্ষম?

Peacock Mantis Shrimp

সামুদ্রিক এই প্রাণীটির নাম পিকক ম্যান্টিস শ্রিম্প বা পিকক ম্যান্টিস চিংড়ি।এটি আর্থ্রোপোডা পর্বের ম্যালাকোসট্রাকা শ্রেণীর অমেরুদণ্ডী প্রানী।এদের দেখতে সাধারণ চিংড়ির মতো নিরীহ মনে হলেও মোটেও এরা নিরীহ নয়।ম্যান্টিস চিংড়ি খুবই ভয়ংকর একটি সামুদ্রিক প্রাণী।এই চিংড়ির প্রজাতি সাগরের রঙিন সব প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।

দৈহিক অনুপাতে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘুষির রেকর্ড রয়েছে পিকক ম্যান্টিস শ্রিম্পের।সাধারণত এরা ঝিনুক এবং কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী শিকার করে।এদের চ্যাম্পিয়ন বক্সারও বলা যায়।শিকারকে বধ করতে ড্যাক্টিল ক্লাব নামক বিশেষ দুটি অঙ্গ দ্বারা প্রচন্ড গতিতে আঘাত করে।মাত্র কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধানে এরা ঘন্টায় ৮০কিলোমিটার বেগে শত্রুর দিকে ছুটে যায়।আঘাতের ত্বরণ

.২২মিলিমিটার ক্যালিবার বুলেটের চেয়েও বেশি।আক্রান্ত স্থানে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়।যার তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৫০০০ কেলভিনের উপরে।ফলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাবল তৈরি হয়।এরা এদের সামনের বড় দুটি পা দিয়ে প্রতিপক্ষকে লাথি মারতে সক্ষম এবং লাথির গতি এতোটাই দ্রুত গতির যে,পানিতে ছোট ছোট বাবল তৈরি হয়ে যায়।সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াটিকে ক্যাভিটেশন বলে থাকেন। 

রঙিন এই চিংড়ির আঘাত বুলেটের চেয়েও মারাত্মক

এই প্রচণ্ড বেগ শক্ত খোলস বিশিষ্ট যে কোনো শত্রুকে কাবু করতে যথেষ্ট।এর আঘাত এতোই বেশি শক্তিশালী যে,এরা মাঝে মাঝেই অ্যাকুরিয়ামের কাঁচও ভেঙ্গে ফেলতে পারে।সেজন্য এদেরকে সাধারণত কাঁচের তৈরি অ্যাকুরিয়ামে না রেখে পুরু প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হয়।

প্রাণীটির আরেকটি বিষ্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এদের চোখ।এরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিটি চোখ নাড়াতে পারে।

মানুষের কালার রিসেপ্টর  ৩টি(লাল,সবুজ,নীল) কিন্তু এদের কালার রিসেপ্টর ১২-১৬টি পর্যন্ত হয়ে থাকে।যার ফলে এরা মানুষের চেয়েও অনেক বেশি রঙিন পৃথিবী দেখতে সক্ষম।প্রকৃতপক্ষে প্রাণীজগতে এরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রঙ দেখতে পায়।এরা এমন কিছু রঙ দেখতে পায় যেগুলো অন্য কোন প্রাণীর কল্পনাতেও নেই।

চিংড়ি মাছের ভয়াবহ রূপ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর বিস্ময়কর অংশীদারিত্ব -  Goggles

চিংড়ি হিসেবে ডাকা হলেও এরা আসলে চিংড়ি নয়।এরা স্টোমাটোপোডা নামক স্বতন্ত্র একটি পর্বের অন্তর্ভুক্ত।পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে এদের ৪০ কোটি বছরের পুরোনো ফসিলও পাওয়া গিয়েছে।কোটি কোটি বছরেও এদের উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয় নি।প্রাণীরা টিকে থাকতে অভূতপূর্ব সব কৌশল আয়ত্ত করে।

তবে এই ম্যান্টিস চিংড়ির জীবন কৌশল অন্য যেকোনো প্রাণীর থেকে আলাদা।

 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ