হোম বাংলার সংবাদ দিঘলিয়াবাসীর প্রশ্ন কবে শুরু হবে মডেল মসজিদের নির্মান কাজ?

দিঘলিয়াবাসীর প্রশ্ন কবে শুরু হবে মডেল মসজিদের নির্মান কাজ?

ওয়াছিক রাজিব দিঘলিয়াঃ 14 Jun, 2021 6:16 PM

দিঘলিয়াবাসীর-প্রশ্ন-কবে-শুরু-হবে-মডেল-মসজিদের-নির্মান-কাজ-2021-06-14-60c73a877f2af.jpg

গত ১০ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে একযোগে সারাদেশের ৫০ টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন ঘোষণা করলেও খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরের মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনও থমকে আছে। অথচ একইসাথে উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল এ মসজিদটির।

উপজেলা সদরে দুর দুরন্ত থেকে আগত সেবা প্রত্যাশীদের নামাজের জন্য নেই তেমন কোন সু-ব্যাবস্হা, বর্তমানে পুরাতন উপজেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় সল্পপরিশরে নামাজের ব্যাবস্হা আছে, যার অবস্থা খুবই নাজুক।দিঘলিয়াবাসীর প্রশ্ন কবে শুরু হবে মডেল মসজিদের কাজ, আর কবে শেষ হবে? প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের এই অবস্থা আমরা মেনে নিতে পারি না। এব্যাপারে কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনাকরছি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে ২০১৯ সালের ১৬ জুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ লতিফুল ইসলাম, টিচবি-মামুন (জেভি) কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে কার্যাদেশ প্রদান করেন। কার্যাদেশ দেওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল, কিন্তু সকল প্রস্তুতি থাকা স্বত্তেও ২৪ মাস পার হয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জমি অধিগ্রহণের ছাড়পত্র না পাওয়া এর মূল কারণ। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি, অন্যদিকে পুরাতন মসজিদটি ভেঙ্গেফেলায় জামাতে নামাজ আদায়ে মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছেন নিকটবর্তী এলাকার মুসল্লিরা।

উল্লেক্ষ্য মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, ইসলামী গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চারও স্থান। সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০ টি ‘মডেল মসজিদ’ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় দিঘলিয়া উপজেলা সদরে ৩১ শতক জায়গার উপর সোয়া ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স’ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ হয়।

এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুল আলম বললেন, উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় সে লক্ষে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রথমে পুরাতন মসজিদের স্হানে স্হানীয়দের দানকৃত জমিতে হওয়ার কথা থাকলেও, মসজিদের লে-আউট দিতে গিয়ে দেখা যায় মসজিদের কেবলার অবস্থান হবে কৌনিক আকারের। যে কারণ প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে আমরা ধর্ম মন্ত্রনালয়ে জমি অধিগ্রহণ এর জন্য প্রস্তাব পাঠাই কিন্তু ধর্ম মন্ত্রনালয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠাতে বলেন, আমরা সে মোতাবেক খুলনা জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা ধর্ম মন্ত্রনালয়ে পাঠাই। এখন ভূমি অধিগ্রহণ হলে, কাজ শুরু করা যাবে। এই আধুনিক মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মিত হলে উপজেলার ইসলামি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম এখান থেকে পরিচালিত হবে।

এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী গাজী মাসুদ রানা বলেন, আমরা কার্যাদেশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে মসজিদের কাজ শুরু করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। জমি অধিগ্রহণের ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে কাজ মাঝপথে থেমে যায় এবং আমরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ি। ইতিমধ্যে মসজিদ নির্মাণ কাজের জন্য আমরা প্রায় তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। প্রস্তাবিত মসজিদ তৈরির জায়গার উপর আমাদের নির্মাণ সামগ্রী রড, সিমেন্ট, পাথর প্রায় ২ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

এছাড়াও সময়ক্ষেপণ এর জন্য নির্মান সামগ্রির মূল্য বৃদ্ধি পাবার কারনে আর্থিক ভাবে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ