হোম বাংলার সংবাদ ফরিদুল হত্যার দায় স্বীকার - ২ জন এবং ৩ জনের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ফরিদুল হত্যার দায় স্বীকার - ২ জন এবং ৩ জনের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

মোঃ নজরুল ইসলাম জাকি 14 Jan, 2021 11:32 AM

ফরিদুল-হত্যার-দায়-স্বীকার---২-জন-এবং-৩-জনের-৪-দিনের-রিমান্ড-মঞ্জুর-2021-01-14-5fffd7730d500.jpg

বগুড়ার শেরপুরের পরিবারের সদস্যদের হাতেই খুন হন ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম (৪৮)।মা ও বোনদের নিকট থেকে কৌশলে ৩০ লাখ টাকার সম্পত্তি দলিল করে নেয়ায় তাকে খুন করা হয়। এ হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড নিহতের ছোট ভাই জিয়া। তবে, ছোট ভাই বউ, ভাতিজা,শ্যালক সরাসরি অংশ নেয়। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের ৭ দিনের মাথায় মাস্টার মাইন্ডসহ ৫ জনকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

এর মধ্যে ওমর ফারুক ও ফারুক আহম্মেদ এ হত্যা কান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিস্কৃতি হাগিদক তাদের দেওয়া জবানবন্দী রেকর্ড করে  আদালতে পাঠিয়েছেন। সেই সাথে অপর তিন আসামী যথাক্রমে জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রীর শাপলা খাতুন ও আব্দুর রাজ্জাককে ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গতকাল সোয়া ১২ টার দিকে বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফ আলী ভুঞা- বিপিএম-বার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।গ্রেফতারকৃতরা হলেন হলদিবাড়ী আটাপাড়া গ্রামের মৃত মান্নান মন্ডলের পুত্র মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), ইটালী মধ্যপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের পুত্র মোঃ ফারুক আহম্মেদ (৩০), একই গ্রামের মৃত রসুল প্রাং এর পুত্র আঃ রাজ্জাক (৫৮), মৃত কোরবান আলীর পুত্র মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ শাপলা খাতুন (৩৫)। উল্লেখ্য যে, মোঃ ওমর ফারুক ভিকটিম ফরিদুলের সৎ শ্যালক, ফারুক আহম্মেদ ভিকটিমের আপন ভাতিজা, মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া ও মোছাঃ শাপলা খাতুন ভিকটিমের আপন ছোট ভাই ও ভাই বৌ এবং আব্দুর রাজ্জাক ভিকটিমের চাচা।

অন্যদিকে ফরিদুল তার সৎ শ্যালক ওমর ফারুকের নিকট থেকে ০৩ লক্ষ টাকার জমি কট (বন্ধক) নিয়েছিল। এ টাকা ফেরৎ দেওয়া নিয়ে তার সাথে শত্রুতা শুরু হয়। ফলে ভিকটিমের ভাই এবং সৎ শ্যালক মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গত ঈদ-উল আযহা/২০২০ খ্রিঃ এর পর ফরিদুল তার একমাত্র পুত্র ইয়ানুর রহমান শাওন (১০) কে পড়াশুনার জন্য ঢাকার সাভারে তার মেয়ের বাড়ীতে রাখেন। তিনি স্ত্রীসহ নিজবাড়ীতে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রিঃ তারিখে তার বোনকে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঢাকায় যান এবং মেয়ের বাড়ীতে উঠেন। বাড়ীতে কেউ না থাকার সুবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা এ সময় কে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ০৬.৩০টায় ফারুক আহম্মেদ ধারালো চাকুসহ তার চাচীর বাড়ীর ভিতরে অবস্থিত ল্যাট্রিনের উপর দিয়ে ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করে অন্ধকার স্থানে ওৎ পেতে থাকে। ফরিদুল সারাদিন মাঠে কৃষি জমিতে সেচের কাজ করে সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরলে বাড়ীর ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ফারুক আহম্মেদ তাকে ধারালো চাকু দিয়ে স্বজোরে মাথার পিছনে দুইটি আঘাত করে।

অন্যদিকে হত্যার সাথে জড়িত অন্যরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ভিকটিম ফরিদুলকে ধরে ফেলে এবং বটি ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকারীরা মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সংবাদ পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করেন। ঘটনার পর প্রথম দিকে কোন ক্লু-ই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মৃত ফরিদুলের স্ত্রী সন্তান কিংবা কোন আত্মীয় স্বজনদের কেহ দিতে পারছিল না কোন তথ্য বা সন্দেহভাজনের নাম। ঘটনার পরদিন মৃতের স্ত্রী ইসমতআরা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম বার স্যারের প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনায় শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ গাজিউর রহমান এর নেতৃত্বে শেরপুর থানার ওসি জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মোঃ সাচ্চু বিশ্বাসদের বিজ্ঞান ভিত্তিক ও বুদ্ধিদীপ্ত পুলিশি তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমে সপ্তাহের ব্যবধানে ফরিদুল হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন শেরপুর থানা পুলিশ।

 

সন্দেহভাজন ওমর ফারুকের ফোন থেকে হঠাৎ করে গত ০৮ জানুয়ারি সকাল ১০.০০ টায় তার স্ত্রীর ফোনে ফোন আসে। অপরিচিত কণ্ঠ বলে উঠে “তোর স্বামীর আশা ছেড়ে দেয়, আর কোনদিন দেখতে পাবি না”। পাশে থেকে ওমর ফারুক বলতে থাকে “আমাকে মাইক্রোতে করে হাত, পা ও চোখ বেধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে”। বিষয়টি ওমর ফারুকের স্ত্রী তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানালে পুলিশ তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারী করতে থাকে।

পরে গতকাল সকালে ওমর ফারুককে মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে।

তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারী ২০২১ খ্রিঃ তারিখ রাতে উল্লিখিত অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম ইটালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে অবশিষ্ট ০৪(চার) জন আসামীকে তাদের নিজ নিজ বাড়ী হতে গ্রেফতার করে।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ