হোম বাংলার সংবাদ বগুড়ার শেরপুরের ব্যবসায়ী ফরিদুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার

বগুড়ার শেরপুরের ব্যবসায়ী ফরিদুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার

মোঃ নজরুল ইসলাম জাকি 14 Jan, 2021 7:59 PM

বগুড়ার-শেরপুরের-ব্যবসায়ী-ফরিদুল-হত্যায়-ব্যবহৃত-অস্ত্র-উদ্ধার-2021-01-14-60004e2d4d832.jpg

বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুর ইউনিয়নের ইটালী গ্রামের ব্যবসায়ী ফরিদুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের ধরা ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য  নিহতের স্ত্রী  পুলিশ কর্মকর্তাদের ফুল উপহার দিয়ে ধন্যবাদ জানান।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) বিকাল ৪:০০ ঘটিকার দিকে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নিহতের ছোট ভাই বউ শাপলা বেগম কে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরই মধ্যে এ বাড়িতে নারী পুরুষ উৎসুক জনতার ঢল নামতে থাকে।এ অবস্থায় শেরপুর ধুনটের পুলিশ কর্মকর্তা  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান এর নেতৃত্বে শেরপুর থানার ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম, ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ, ভবানীপুর বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সিয়াম, মামলার আইও এস আই সাচ্চু বিশ্বাস সহ বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত হন।

পরবর্তিতে জিয়াউর রহমানের ঘরের সিমেন্টের আলমারীর উপর থেকে নিহত ফরিদুল হত্যায় ববহৃত  প্লাস্টিকের হাতার ১ টি  ছুরি  উদ্ধার করা হয় যার সাথে রক্ত ছিল  এবং তারপরে রান্না ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করা হয় এবং  অন্য ঘর থেকে প্রাচীর টপকানোর কাজে ব্যবহৃত একটি মই উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরেই শাপলা বেগমকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ  থানায় নিয়ে যায়।

এছাড়া ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান জিএম মোস্তফা, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুজ্জামান মৃদুল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

মামলার আইও এস আই সাচ্চু বিশ্বাস জানান, এ মামলায় আমি কয়েকদিন ঘুমাতে পারিনি, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পূন্ন করতে পেরেছি। রাতদিন ঘুমানোর সময় পর্যন্ত পাইনি। প্রত্যেকটি তথ্য উর্ধ্বতন স্যারদের জানিয়েছি এবং তাদের দিকনির্দেশনায় মামলার কারন উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো জানান, ফরিদুল হত্যার ৩ দিনের খাওয়ার অনুষ্ঠানে ভিক্টিমের শ্যালক ওমর ফারুককে অন্য মনস্ক লাগছিল এবং আমি তার কাছে গিয়ে খাবার কথা বললে, সে  জানায় শরীর খারাপ খেতে পারছি না। তখন আমি তার মোবাইল নাম্বার নিই এবং উর্ধ্বতন স্যারদের জানাই, আমি মনে করি, এটাই তাকে প্রথম ধাক্কা। তারপরেই সে নিজে অপহরনের নাটক সাজায়। 

শেরপুর ধুনটের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, বগুড়া পুলিশ সুপার জনাব আশরাফ আলী ভূঞা বিপিএম-বার স্যারের দিক নির্দেশনায়, অল্প সময়ের মাধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পেরে শেরপুর থানার সুযোগ্য ওসি শহিদুল ইসলাম, সুযোগ্য ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদ, বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সিয়াম ও মামলার আইও অফিসার এসআই সাচ্চু বিশ্বাস সহ এলাকার জণগনকে ধন্যবাদ জানান। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার সুত্রপাত জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে। দুই মাস পূর্বে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।নিহত ফরিদুল বাড়িতে একা থাকার সুবাদে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। বাড়িতে   প্রথমে ভিকটিমের ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ প্রাচীর টপকিয়ে নিহত ফরিদুলের একটি ঘরে ও্যৎ পেতে থাকে। এবং নিহতের চাচা আব্দুর রাজ্জাক ও নিহতের শ্যালক ওমর ফারুক গেটের পার্শ্বে লুকিয়ে থাকে। এবং শাপলা বেগম বটি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফরিদুল বাড়ির ভিতরে মটর সাইকেল রেখে আসার সময় নিহতের ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ ধারালো ছুরি দিয়ে মাথার পিছনে দুইটি কোপ দেয়। এসময় ফরিদুল দৌড় দিলে বাঁকি আসামীরা তাকে জাপটে ধরে মাটিতে শুইয়ে দেয়। তারপরে নিহতের চাচা আব্দুর রাজ্জাক কোপাতে থাকে, তারপর নিহতের শ্যালক ওমর ফারুক ও নিহতের ছোট ভাই বউ বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করার পরে স্থান ত্যাগ করে। এছাড়া নিহতের ছোট ভাই জিয়াউর রহমানের সংশ্লিস্টতা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

 এছাড়া ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়াম্যান আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুজ্জামান মৃদুল দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ