হোম বাংলার সংবাদ বানিয়াচং বড়বাজারে ওয়ালটন শো-রুমে স্ত্রীর দাবীতে প্রেমিকার অনশন

বানিয়াচং বড়বাজারে ওয়ালটন শো-রুমে স্ত্রীর দাবীতে প্রেমিকার অনশন

আকিকুর রহমান রুমন 06 Mar, 2021 10:20 AM

বানিয়াচং-বড়বাজারে-ওয়ালটন-শো-রুমে-স্ত্রীর-দাবীতে-প্রেমিকার-অনশন-2021-03-06-604303113e464.jpg

হবিগঞ্জের বানিয়াচং বড়বাজারের ওয়ালটন শো রুমের এক ব্যাবসায়ীর দোকানে স্ত্রী'র দাবী নিয়ে অনশন করেছে এক যুবতী। ঐ ব্যাবসায়ী হলেন বড়বাজার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী পুরানবাগ মহল্লার মৃত ময়না মিয়ার পুত্র মতিউর রহমান। এবং অনশনকারী যুবতি কন্যা হলো যাত্রাপাশা মহল্লার হাজী উমর মাস্টারের কন্যা শিরিন বেগম।

ঘটনাটি ঘটেছে ৫মার্চ শক্রুবার রাত সাড়ে ৮টায়। বিভিন্ন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়,মতিউর রহমান দক্ষিন যাত্রাপাশা গ্রামের মৃত নুর মিয়ার কন্যাকে বিয়ে করেন এবং তার একটি কন্যা ও পুত্র সন্তান রয়েছে। ঐ এলাকায় বিয়ে করা এবং শশুরালয়ে যাতায়াতের সুবাদে কু-নজর পড়ে শিরিনের উপর। চতুর চালাক মতিউর রহমান বিভিন্ন প্রলোভন দেখীয়ে এক পর্যায়ে শিরিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে মতিউরের দুটি সন্তান থাকার পরও তাহার অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তার স্রী শশুর বাড়ির লোকজন। তাই মতিউর রহমানকে এই রাস্তা থেকে ফেরাতে না পারায় তার সন্তানদের নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায় তার প্রথম স্রী। প্রায় ৩বছর পিত্রালয়ে আটক থাকার পর লোকজন লাগিয়ে সে তার স্রী,সন্তানদের বাড়িতে আনে। এমনকি সে ভবিষ্যতে আর এরকম কাজ করবেনা বলেও শশুর বাড়িতে অঙ্গীকার করে আসে। কিন্তু বিধিবাম যেই লাউ সেই কদু.!

এদিকে মতিউর রহমান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন জায়গায় এমন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। মতিউর রহমান আমীরখানী মহল্লায় এবং দত্তপাড়া মহল্লার এক প্রবাসীর স্রীর সাথেও এমন অবৈধ সম্পর্ক করে যাতায়াত করে আসছে বলেও জানাযায়। আজ তার দোকানের বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হয়ে পড়লে তার অন্যসব বিষয় নিয়েও লোকমুখে আলাপ আলোচনা সমালোচনা ছিল লক্ষনীয়। শিরিন বেগমের এমন অবস্থান দেখে এবং এই বিষয়টি বাজারের ব্যাবসায়ীবৃন্দ ও আগতদের মধ্যে জানাজানি হলে এই দোকানের সামনে শত,শত লোকজন জুড়ো হতে থাকেন। কিন্তু মতিউর রহমান শিরিন বেগমকে স্রীর মর্যাদা না দিয়ে উল্টো শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তার সাথে আসা অভিবাবকগন। মতিউর রহমানের এহেন কার্যকলাপ দেখে পক্ষ নেয় বাগ মহল্লার কিছু আত্বীয় স্বজনগন এবং উত্তেজিত হয়ে দোকানের দিকে অবস্হান নেন এবং মতিউর রহমানের পক্ষ নিয়ে নন্দীপাড়া মহল্লার কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে মারমুখী অবস্হান নেন এবং দাওয়া পাল্টা দাওয়ারও ঘটনা ঘটে। এসব আতংকিত হয়ে পড়েন বাজার ব্যাবসায়ীগন।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ এমরান হুসেনের নেতৃত্বে এসআই আব্দু রহমানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এবং মতিউর রহমান ও শিরীনকে বাজার থেকে উদ্ধার করে সমাধানের স্বার্থে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শিরিনের এলাকাবাসীর কাছ থেকে আরও জানাযায়,১০/১৫দিন পূর্বে শিরিনের বাড়িতে মতিউর রহমানকে আটক করা হয় এবং ৭লাখ টাকার কাবিন দিয়ে স্হানীয় মৌলানা দিয়ে তাদেরকে বিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি রাত পৌনে ৩টার দিকে খাইরুল বাশার সুহেল,নিপ্পন মিয়া ও আবু সালেক মিয়া যাত্রাপাশা শিরিনের বাড়ি থেকে মতিউর রহমানকে নিয়ে আসেন বলেও খবর পাওয়া যায়।

এব্যাপারে বাজার সভাপতি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,মেয়েটি কোর্টএফিডিভিট করে মতিউর বিয়ে করেছে কিন্তু মেয়েটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তার স্বামীর দোকানে অবস্থান নিয়েছে। এবং এই বিষয়টি নিয়ে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এবং বাৎসরিক তাফসিরের ব্যাঘাত ঘটলে পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এব্যাপারে ওয়ালটন শো-রুমের ব্যাবসায়ী মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে শিরিনের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা ও ৪নং ইউপির চেয়ারপ্রার্থী মারুফ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে ফোন করলে কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এমরান হুসেনের সাথে রাত ১২টার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,উভয়পক্ষকে নিয়ে এখনো আলাপ-আলোচনা চলছে কোন সমাধান হয়নি। পড়ে এবিষয়ে জানাবেন বলেও জানান তিনি। এই বিষয়টি দেখে ও শুনে অনেকেই মতিউর রহমানকে ধ্বিক্কার জানিয়ে বলেন,এমন একজন চরিত্রহীন লোক ছান্দের সভাপতি হয় কিভাবে। আবার বাজারের সভাপতি প্রার্থী হয়ে প্রতিনিধি করতে চায়.!


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ