হোম বাংলার সংবাদ শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হস্তান্তরের পূর্বে স্থাপনায় ফাটল,অনিয়মের অভিযোগ

শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হস্তান্তরের পূর্বে স্থাপনায় ফাটল,অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক 23 Jan, 2021 12:44 PM

শেরপুরে-প্রধানমন্ত্রীর-উপহার-হস্তান্তরের-পূর্বে-স্থাপনায়-ফাটল,অনিয়মের-অভিযোগ-2021-01-23-600bc5c2c978c.jpg

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের মাঝে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ঘর নির্মাণ কাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, হস্তান্তরের পূর্বে স্থাপনায় ফাটল ধরাসহ নানা ।

শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকড়কোলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় যে ঘর গুলো নির্মাণে এতই নিন্মমানের উপকরন ব্যবহার করা হয়েছে যে হস্তান্তরের পূর্বে স্থাপনায় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আমাদের গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য তিনটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নিম্নমানের ইট, খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ, নিম্নমানের বালু, কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। একটি ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। যেভাবে কাজ হয়েছে তাতে মনে হয় এই ঘর বেশি দিন টিকবে না। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

প্রকল্পের ১২ নং উপকারভোগী শেরপুর উপজেলার ১নং কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া কলোনী গ্রামের মৃত আবু বক্করের স্ত্রী বাছিরন বেগম।
তিনি বলেন, ঘরের কাজ ভালো করার জন্য ৫ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছি। তাছাড়া ঢালাইয়ের কাজে রডসহ প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ দিতে হয়েছে। 
এসময় তার সঙ্গে থাকা ছেলের বউ লাইজু খাতুন বলেন, ‘এসব না দিলে কাজ ভালো হতো না।’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ১নং উপকারভোগী একই গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী গৃহিনী রুবিয়া খাতুন বলেন, আমিও কাজ ভালো করার জন্য দুই বস্তা সিমেন্ট দিয়েছি। কিন্তু ঘরের কাজ ভালো হয়নি। ঘরের মেঝেসহ অন্যান্য কাজ ভাল হয়নি। পলেস্তরা খসে পড়ছে।

প্রকল্পের ৬১নং উপকারভোগী মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকড়কোলা গ্রামের ছারা খাতুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘর দিছে, আমি খুশি হচি বাবা। কিন্তু ঘর তৈরিতে সিমেন্ট দিচে অল্প কইরা, বালু দিচে বেশি।’ 

২৭ নং উপকারভোগী খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, কাজের সময়ই ঘরের একটি পিলারে ফাটল ধরেছে।তড়িঘড়ি কাজ করায় এ সমস্যা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

স্থানীয়রা জানান, খামারকান্দিতে আরো যে দুটি ঘর নিচু জায়গাতে নির্মাণ করা হয়েছে। যা সামান্য বন্যা হলেই পানিতে তলিয়ে যাবে। ঘর নির্মাণে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. শামছুন্নাহার শিউলী জানান, প্রকল্পের নকশা ও প্রকল্প অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। ঘর নির্মাণে যে টাকা বরাদ্দ রয়েছে তা অপ্রতুল। দুই একটি জায়গায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেলেও সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া উপকারভোগীদের নিকট থেকে টাকা কিংবা সিমেন্ট নেয়ার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী শেখ বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে শেরপুর উপজেলায় ১৬৩টি গৃহ নির্মাণ করে ভূমিহীনদের পুর্নবাসন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯৫শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গৃহনির্মাণ কাজে একটি অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ