হোম বাংলার সংবাদ হবিগঞ্জে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মারুফ খান নামে এক যুবকের চাকরিচ্যুত।।

হবিগঞ্জে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মারুফ খান নামে এক যুবকের চাকরিচ্যুত।।

আকিকুর রহমান রুমন 01 May, 2021 9:18 AM

হবিগঞ্জে-জুম্মার-নামাজ-আদায়-করতে-গিয়ে-মারুফ-খান-নামে-এক-যুবকের-চাকরিচ্যুত।।-2021-05-01-608cba6895de1.jpg

 

হবিগঞ্জে শুক্রুবার জুমার নামাজে যাওয়ার অপরাধে শহরের(প্রাণ আরএফএল'র বেস্ট বাই)শো রুমের এ সেলস এক্সিকিউটিভকে চাকুরীচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ঐ সেলস্ ম্যান ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন মহলের আড়ালে থাকা মুখোশধারী শয়তানদের হুমকি ধামকীর কারনে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তিনি তার ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ।

ঘটনাটি ঘটেছে,৩০ এপ্রিল শুক্রুবার হবিগঞ্জ শহরের প্রান গ্রুপের আরএফএল বেস্টবাই শোরুমে। জানাযায়,শক্রুবার জুম্মার নামাজ আদায় করাকে কেন্দ্র করে এঘটনাটি ঘটে। তাই পাঠক মহলের সবার সুবিদার্থে প্রথমেই ঐ চাকুরীচ্যুত যুবক"মারুফ খানের ফেইসবুক পোষ্ট'টি হুবহু তুলে ধরছি।

মারুফ খান তার নিজের ফেইসবুক থেকে এভাবেই লিখাটি পোস্ট করেন। "আমি মারুফ খান- আরএফএল বেস্ট বাই-হবিগঞ্জ সদর শোরুমের একজন সেলস্ এক্সিকিউটিভ। আমি একজন মুসলমান! নামাজ আদায় করা আমাদের ইসলাম ধর্মে প্রত্যেকের জন্য ফরয।আর সেই ফরয নামাজ(পবিত্র জুম্মার নামাজ) পড়তে যাবার অপরাধে আজ আমাকে শোরুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

আজান পরার পর আরএফএল বেস্ট বাই শোরুম, আমাদের হবিগঞ্জ সদরের শোরুম ম্যানেজারকে ফোন দেই কিন্তু উনি ফোন না ধরে কেটে দেন। উনি ফোন ধরবেন কিভাবে উনি তো প্রতিদিনের ন্যায় কাজ ছেড়ে বাহিরে গিয়ে আরাম করছিলেন।উনি ফোন না ধরাতে আমি কাপড় বদলিয়ে আমরা ৩ জন শোরুম বন্ধ করে মসজিদে চলে যাই।

ঠিক ঐ মূহুর্তে ম্যানেজার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন যে, আমি কার অনুমতি নিয়ে শোরুম বন্ধ করছি,সে আমাকে বলে যে আমি চাকরি করতে চাই না নামাজ পড়তে চাই? আমি তখন বললাম স্যার চাকরি করি বলে কি আমাকে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে? উনি আমাকে ঐ কথা শুনে হুমকি দেন যে আমাকে ঘাড় ধরে শোরুম থেকে বের করে দিবেন এবং আমাকে চাকরি থেকেও বের করে দিবেন। ঐ মূহুর্তে আমি নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে চলে আসি এবং আইসা শোরুম খুলি। তখন ম্যানেজার আইসা আমাকে শোরুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমি কিছু বুঝে উঠতে না পেরে কি করবো না করবো কোনো কিছু না ভেবে চলে আসি।

শুধুমাত্র মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুম্মার নামাজ পড়ার অপরাধে আমাকে কাজ ও শোরুম থেকে বের করে দেয়া হলো। চাকরি করি তাই বলে কি আমি আমার ধর্ম ও নামাজ আদায় করতে পারবোনা। নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি এটাই কি আমার অপরাধ? নামাজ পড়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে আর সেই অপরাধে যদি চাকুরিচ্যুত হতে হয় তাহলে আমি আমার আল্লাহ ও রাসুলের বিধান পালন করতে গিয়ে সেই চাকরি করবোনা।

তবে শুক্রবার রাতে মারুফ খান জানান, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার কারণে তাকে এখন বিভিন্ন শক্তিধর মানুষরুপী শয়তানরা হুমকি ধামকী দিচ্ছে যাচ্ছে। এই কারনে ঐ যুবক ও তার পরিবার নিয়ে আংতকে রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এব্যাপারে চাকরিচ্যুত হওয়া যুবক মারুফ খানের সাথে তার ব্যাবহৃত মুঠোফোন নাম্বার(০১৭১৫-৫৫৪৪৩৬)এ যোগাযোগ করা হলে তিনি উপরে উল্লেখিত সকল কথার সত্যতা শিকার করেন। এমনকি তার পোস্টটি ডিলেট করার জন্য আরএফএল কোম্পানির অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা তাকে চাপ প্রয়োগ করতেছেন এবং বিষয়টি তারা অফিশিয়াল ভাবে সমাধান করার কথাও বলছেন বলে জানান। তবে এই ব্যাপারে থানায় কোন প্রকার অভিযোগ বা জিডি এন্ট্রি করেছেন কিনা জানতে চাইলে,সেও আরও জানায় এবিষয়টি তার পরিবারসহ সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন এবং হুমকি ধামকীর কারনে জিডি এন্ট্রি করবেন বলেও আলাপকালে বলেন।

এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ম্যানেজার জাকির হুসেনের সাথে তার ব্যাবহৃত মুঠোফোন নাম্বার(০১৮৪১-৩১৩৩১৭)এ যোগাযোগ করা হলে, তিনি এসব ঘটনাকে মিথ্যা এবং ভূয়া বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি নিজেও নামাজ পড়েন এমনকি তাদের সমগ্র বাংলাদেশের সকল শো-রুম গুলোতে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট করে সিডিউল দেওয়া আছে বলেও জানান। তবে মারুফ খানকে চাকরিচ্যুত করার জবাবে তিনি আরও বলেন,ওর ভিতরে কিছু সমস্যা ছিলো। আর সে এখন নামাজের কথা বলে এই বিষয়টিকে তার ফেইসবুকে পোস্ট করেছে। তার এমন কর্মকান্ডে সমাজে শুধু আমাকেই নয় এমনকি এই সুনামধন্য কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করে মানহানিকর কুৎসা রটিয়েছে। তাহলে মারুফ খানের এহেন কার্যক্রমে তার বিরুদ্ধে শো-রুম'র পক্ষ থেকে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে,তিনি এসম্পর্কে বলেন,শোরুমের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে এবিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা এব্যাপারে ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে মারুফ খানের এই পোস্ট'টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাই অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দার মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। এমনকি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শো-রুমের ম্যানেজারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি এবং তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরদাবীও জানিয়েছেন।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ