হোম বাংলার সংবাদ হবিগঞ্জে নামাজে বাধা, চাকুরীচুত্য পরে থানায় বসে চাকুরীতে পূনঃবহাল।

হবিগঞ্জে নামাজে বাধা, চাকুরীচুত্য পরে থানায় বসে চাকুরীতে পূনঃবহাল।

(হবিগঞ্জ জেলা থেকেঃ- আকিকুর রহমান রুমন) 02 May, 2021 10:15 AM

হবিগঞ্জে-নামাজে-বাধা,-চাকুরীচুত্য-পরে-থানায়-বসে-চাকুরীতে-পূনঃবহাল।-2021-05-02-608e19648ddda.JPG

 

হবিগঞ্জে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়ে চাকরিচ্যুত ঘটনার সমাধান।।সদর থানার রাতে বৈঠকের মাধ্যমে উভয়কে মিলিয়ে চাকরি বহাল দু'জনের।।পুনঃরায় ফেইসবুকে মারুফের পোস্ট।।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানাযায়,১লা মে রোজ শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে দশ ঘটিকায় সদর থানায় একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত বৈঠকের ব্যাবস্হা করেন কোম্পানির বেস্ট বাই শোরুমের হেড অফিসের কর্মকর্তাগন।

তারা এবিষয়টিকে দ্রুত তড়িৎ গতিতে সমাধানের জন্য ঢাকা থেকে হবিগঞ্জে চলে আসেন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একটি বক্তব্য আকারে ব্যাখ্যা প্রদান করে বেস্ট বাই কতৃপক্ষ। হেড অফিসের লোকজন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ,হবিগঞ্জ ব্যাকস্'র সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলসহ অন্যান্য গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে এই বৈঠকটি করা হয়।

উক্ত বৈঠকটি সুন্দর ভাবে যেন অনুষ্ঠিত হয় এব্যাপারে সদর থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মাসুক আলীর ভূমিকাও ছিলো প্রশংসনীয়। তিনি এই বিষয়টিকে নিয়ে যেন কেউ,অন্য মোড়ে নিতে না পারেন সেজন্য তিনি সমাধানের স্বার্থে যথেষ্ট সহযোগীতা ও ভূমিকা রেখেছেন বলেও বৈঠক সূত্র জানায়।

বৈঠকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জ ব্যাকস্ সভাপতি নাজমুল হুদা।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু মিয়া।বেস্ট বাই হেড অফিসের লিগ্যাল ম্যানেজার আকবর হুসেনের নেতৃত্বে স্হানীয় সকল এরিয়া ওরিজোন্যাল কর্মকর্তাগন।

পরে উভয়ের মধ্যে অন্যান্য বিষয়ে মনোমালিন্য সহ সবকিছু মিমাংসা করে দিয়ে উভয়কে মিলিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি বৈঠকে উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে উভয়কে পুনঃরায় চাকরিতে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গৃহত হয় এবং বিষয়টি মিমাংসা করে রাত পৌনে বারোটায় বৈঠকের কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাসুক আলী,ব্যাকস্ সভাপতি নুরুল হুদা,ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিপু মিয়া এবং হেড অফিস থেকে আসা লিগ্যাল ম্যানেজার আকবর হুসেনসহ সকলের সাথে এই বিষয়ের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে তাদের সকলের কাছ থেকে উপরে উল্লেখিত বিষয়ের সত্যতা শিকার করে বৈঠকে সবার সিদ্ধান্তেই বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলেও সত্যতা নিশ্চিত করেন তারা।

No description available.

পরে এই সমাধান হওয়ার বিষয় নিয়ে আবারও চাকরিচ্যুত হওয়া যুবক-মারুফ খান ফেইসবুকে পুনঃরায় আরেকটি পোস্ট করেন। সেই পোস্ট'টি পাঠকের সুবির্ধাতে হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ- মারুফ খানের ফেইসবুক পোস্ট..!! আলহামদুলিল্লাহ্ দেশের আপামর জনসাধারণের সহযোগিতা,পুলিশ প্রশাসন,ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর,সুধী সমাজ ও হবিগঞ্জে আগত আরএফএল টিমের সহযোগিতা ও চেষ্টায় আলহামদুলিল্লাহ্ আমি সুবিচার পেয়েছি,আর ম্যানেজার তার কৃতকর্মের উপযুক্ত সাজা পেয়েছে। আমার সাথে হওয়া অন্যায়ের সুবিচার পাওয়ার পিছনে আমার প্রতি আপনাদের সহযোগিতা ও ভালবাসায় আমি চিরকৃতজ্ঞ ও চিরঋণী। ম্যানেজার সাহেব তার ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমার সাথে যা করেছিলো প্রশাসন ও আরএফএল টিমের সদস্যদের চেষ্টায় একটি সুষ্ট ও সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমাদের মধ্যে নামাজ নিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিলো তার সুবিচার আমি পেয়েছি। আরএফএল গ্রুপের কথা এটাই ম্যানেজার যা করেছিলো তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এরজন্য কোম্পানি কোনভাবেই জড়িত নয়,আরএফএল গ্রুপ সবসময় নামাজ আদায় করা ও যার যার ধর্ম পালনে সবধরনের সহযোগিতা ও সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে। ব্যক্তিগত আক্রোশের সাথে কোম্পানি কোনমতেই সম্পৃক্ত নয়,আরএফএল কোনোভাবেই এটা সাপোর্ট করেনা। আলহামদুলিল্লাহ্ আমি আমার চাকুরীতে বহাল আছি। আপনারা সামাজিক সোশালমেডিয়া ফেসবুকের মাদ্ধমে যে যেভাবে পারছেন প্রতিবাদ করে সবাই আমার প্রতি যে সহযোগিতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন আমি আপনাদের সবার এই সহযোগিতা ও ভালবাসার কাছে কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে থাকবো। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।

উল্লেখ্য,গত ৩০ এপ্রিল শক্রুবার হবিগঞ্জে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়ে মারুফ খান নামে এক যুবকের চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। জানাযায়,জুমার নামাজে যাওয়ার অপরাধে শহরের(প্রাণ আরএফএল'র বেস্ট বাই)শো রুমের এ সেলস এক্সিকিউটিভ মারুফ খানকে চাকুরীচ্যুত করার বিষয়টি তিনি নিজেই তার ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে অভিযোগ তুলেন ঐ যুবক।

বর্তমানে ঐ সেলস্ ম্যান ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন মহলের হুমকি ধামকীর কারনে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তিনি তার ফেইসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ। তাই পাঠক মহলের সুবিদার্থে প্রথমেই ঐ চাকুরীচ্যুত হওয়া যুবক"মারুফ খানের ফেইসবুক পোষ্ট'টি হুবহু তুলে ধরছি।

মারুফ খান তার নিজের ফেইসবুক থেকে এভাবেই লিখাটি পোস্ট করেন। "আমি মারুফ খান- আরএফএল বেস্ট বাই-হবিগঞ্জ সদর শোরুমের একজন সেলস্ এক্সিকিউটিভ। আমি একজন মুসলমান! নামাজ আদায় করা আমাদের ইসলাম ধর্মে প্রত্যেকের জন্য ফরয।আর সেই ফরয নামাজ(পবিত্র জুম্মার নামাজ) পড়তে যাবার অপরাধে আজ আমাকে শোরুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আজান পরার পর আরএফএল বেস্ট বাই শোরুম, আমাদের হবিগঞ্জ সদরের শোরুম ম্যানেজারকে ফোন দেই কিন্তু উনি ফোন না ধরে কেটে দেন। উনি ফোন ধরবেন কিভাবে উনি তো প্রতিদিনের ন্যায় কাজ ছেড়ে বাহিরে গিয়ে আরাম করছিলেন।উনি ফোন না ধরাতে আমি কাপড় বদলিয়ে আমরা ৩ জন শোরুম বন্ধ করে মসজিদে চলে যাই। ঠিক ঐ মূহুর্তে ম্যানেজার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন যে, আমি কার অনুমতি নিয়ে শোরুম বন্ধ করছি,সে আমাকে বলে যে আমি চাকরি করতে চাই না নামাজ পড়তে চাই?

আমি চাকরি করতে চাই না নামাজ পড়তে চাই? আমি তখন বললাম স্যার চাকরি করি বলে কি আমাকে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে? উনি আমাকে ঐ কথা শুনে হুমকি দেন যে আমাকে ঘাড় ধরে শোরুম থেকে বের করে দিবেন এবং আমাকে চাকরি থেকেও বের করে দিবেন। ঐ মূহুর্তে আমি নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে চলে আসি এবং আইসা শোরুম খুলি। তখন ম্যানেজার আইসা আমাকে শোরুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমি কিছু বুঝে উঠতে না পেরে কি করবো না করবো কোনো কিছু না ভেবে চলে আসি। শুধুমাত্র মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুম্মার নামাজ পড়ার অপরাধে আমাকে কাজ ও শোরুম থেকে বের করে দেয়া হলো। চাকরি করি তাই বলে কি আমি আমার ধর্ম ও নামাজ আদায় করতে পারবোনা। নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি এটাই কি আমার অপরাধ? নামাজ পড়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে আর সেই অপরাধে যদি চাকুরিচ্যুত হতে হয় তাহলে আমি আমার আল্লাহ ও রাসুলের বিধান পালন করতে গিয়ে সেই চাকরি করবোনা। তবে শুক্রবার রাতে মারুফ খান জানান, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার কারণে তাকে এখন বিভিন্ন শক্তিধর মানুষরুপী শয়তানরা হুমকি ধামকী দিচ্ছে যাচ্ছে। এই কারনে ঐ যুবক ও তার পরিবার নিয়ে আংতকে রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এব্যাপারে চাকরিচ্যুত হওয়া যুবক মারুফ খানের সাথে তার ব্যাবহৃত মুঠোফোন নাম্বার(০১৭১৫-৫৫৪৪৩৬)এ যোগাযোগ করা হলে তিনি উপরে উল্লেখিত সকল কথার সত্যতা শিকার করেন। এমনকি তার পোস্টটি ডিলেট করার জন্য আরএফএল কোম্পানির অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা তাকে চাপ প্রয়োগ করতেছেন এবং বিষয়টি তারা অফিশিয়াল ভাবে সমাধান করার কথাও বলছেন বলে জানান। তবে এই ব্যাপারে থানায় কোন প্রকার অভিযোগ বা জিডি এন্ট্রি করেছেন কিনা জানতে চাইলে,সেও আরও জানায় এবিষয়টি তার পরিবারসহ সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন এবং হুমকি ধামকীর কারনে জিডি এন্ট্রি করবেন বলেও আলাপকালে বলেন। এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ম্যানেজার জাকির হুসেনের সাথে তার ব্যাবহৃত মুঠোফোন নাম্বার(০১৮৪১-৩১৩৩১৭)এ যোগাযোগ করা হলে, তিনি এসব ঘটনাকে মিথ্যা এবং ভূয়া বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি নিজেও নামাজ পড়েন এমনকি তাদের সমগ্র বাংলাদেশের সকল শো-রুম গুলোতে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট করে সিডিউল দেওয়া আছে বলেও জানান। তবে মারুফ খানকে চাকরিচ্যুত করার জবাবে তিনি আরও বলেন,ওর ভিতরে কিছু সমস্যা ছিলো। আর সে এখন নামাজের কথা বলে এই বিষয়টিকে তার ফেইসবুকে পোস্ট করেছে। তার এমন কর্মকান্ডে সমাজে শুধু আমাকেই নয় এমনকি এই সুনামধন্য কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করে মানহানিকর কুৎসা রটিয়েছে। তাহলে মারুফ খানের এহেন কার্যক্রমে তার বিরুদ্ধে শো-রুম'র পক্ষ থেকে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে,তিনি এসম্পর্কে বলেন,শোরুমের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে এবিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা এব্যাপারে ফাইনালি সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান তিনি। এদিকে মারুফ খানের এই পোস্ট'টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। তাই অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দার মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। এমনকি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত শো-রুমের ম্যানেজারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি এবং তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরদাবীও জানিয়ে ছিলেন।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ