হোম বাংলার সংবাদ ‘ওদের বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে’; নেই ঈদের আমেজ!

‘ওদের বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে’; নেই ঈদের আমেজ!

মোঃ জুয়েল হোসেন || জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ 06 May, 2021 5:37 PM

‘ওদের-বিচারের-বাণী-নীরবে-নিভৃতে-কাঁদছে’;-নেই-ঈদের-আমেজ!-2021-05-06-6093d500787de.png

ঈদুল ফিতরের মাত্র ক'দিন বাকি রয়েছে। প্রতি বছরই তাঁতবস্ত্র ব্যবসার ভরা মৌসুমে এ সময় দিনরাত ব্যতিব্যস্ত থাকতে দেখা গেলেও এবার শাহজাদপুরেরর তাঁত শ্রমিকদের হাতে পর্যাপ্ত কাজ ও অর্থ না থাকায় তাদের মাঝে নেই ঈদের আমেজ; আছে কেবল হতাশা। করোনার কারণে গত প্রায় ১ বছর ধরে দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুরের সিংহভাগ তাঁত বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে এমনিতেই হাঁ-হুঁতাশ করছে।

এরই মধ্যে তাদের বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে পরিবার পরিজনের জীবনজীবিকা নিয়ে প্রতিটি মুহুর্ত চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় তাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। করোনার প্রভাবে একের পর এক তাঁত কারখানা বন্ধ, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবদ্ধি, রং, সুতাসহ তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সকল কাঁচামাল ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ব বেঁচা-কেনা না থাকা, বিভিন্ন এনজিও, সুদখেকো ব্যবসায়ী, সমিতি ও ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের বোঝা বহন, ক্রয়-ক্ষমতা হ্রাস, তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিতসহ নানাবিধ কারণে এলাকার তাঁত শ্রমিকদের ভাগ্যাকাশ বর্তমানে বিরাজ করছে কালো মেঘের ঘনঘটা।

শাহজাদপুরের ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত প্রায় লাখো তাঁত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে, ভাগ্যন্নয়োন, চলমান সংকট নিরসন, জীবন জীবিকা আর রুটি রুজি নিশ্চিত ও ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কারো ভাবনা না থাকায় শ্রমিকের দুর্ভাগ্য-দুর্গতি ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয়, হতদরিদ্র শাহজাদপুরের ভাগ্যবিড়ম্বিত লাখো তাঁত শ্রমিকের সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে তাদের বুক ফাঁটলেও মুখ ফুঁটছে না !

এদের বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে! শাহজাদপুর তাঁত শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর পৌর এলাকাসহ ১৩ টি ইউনিয়নে তাঁতশিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। এদের কেউ তাঁত বুঁনন করে, কেউ কাপড় ভাঁজ করে, কেউ রং করে, কেউ চরকায় সুতা কাটে, কেউ লেবেলিং, প্যাকটজাতকরণের কাজ করে, আবার কেউ শানা বোয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

এদের মধ্যে স্থানীয় শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি, আর বাদবাকি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মঙ্গাপীড়িত এলাকা থেকে আগত। বর্তমানে এসব শ্রমিকের গড় আয় প্রায় ২'শ থেকে আড়াই'শ টাকা। আগে সপ্তাহে ৭ দিনই শ্রমিকরা তাঁত কাজ করলেও করানার ক্রান্তিকালে সপ্তাহে তাদের ৩-৪ দিন বসে থাকত হচ্ছে। তাও আবার অনেক কারখানায় সকাল বেলা কাজ থাকলেও বিকেলে বন্ধ থাকে তাঁত। চাল, ডাল, ভোজ্য তেলসহ সকল প্রকার নিত্যপণ্যের সীমাহীন উর্ধগতিতে এই আয় দিয়ে বর্তমান জীবন চালানো

তাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবার এমন অনেক শ্রমিক রয়েছেন যাদের ১ জনের আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল। এমন শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারের বর্তমানে কিভাবে দিন কাটছে তা পল্লী এলাকায় গিয়ে নিজ চোখে না দেখলে ঠাহর করার উপায় নেই । এ বিশাল সংখ্যক শ্রমিকের সিংহভাগই ‘দিন আনি দিন খাই’-এ নীতিতেই জীবন চলে। কোন দিন কাজ বন্ধ থাকলে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহার বা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়।

ফলে ওইসব শ্রমিকেরা পুঁজি ভঙ্গ, সম্পদ বেঁচে, ধার-দেনা করে, এনজিও থেকে চড়া সুদ ঋণ নিয়ে অতিকষ্টে কোন ভাবে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করছে। আবার এদের ধারদেনা ও ঋণের মাশুল দিতে হচ্ছে প্রতিটি দিন প্রতিটি ক্ষণ। নিত্যপণ্যের উর্ধগতিতে এমনিতেই ওদের বেহাল অবস্থা, তারপরও ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’এর মতো ঋণের কিস্তি টানতে টানতে ঋণ শোধের পরিবর্তে নতুন করে তারা ঋণের অর্ধ জলে আটকা পড়ে শাহজাদপুরের তাঁত শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে আর হাঁ-হুঁতাশ করছে।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ