হোম বিনোদন বিশ্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিলো স্কুইড গেম!

বিশ্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিলো স্কুইড গেম!

অনলাইন ডেস্ক 09 Oct, 2021 10:39 PM

বিশ্বের-সব-রেকর্ড-ভেঙে-দিলো-স্কুইড-গেম!-2021-10-09-6161c5a822355.jpg

পুরনো সব রেকর্ড ভাঙতে চলেছে সাউথ কোরিয়ান সিরিজ ‘স্কুইড গেম’। সম্প্রতি ওটিটি প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সে এটি রিলিজ হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে সিরিজটি আয় করেছে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার। প্রযোজক ধারণা করছেন এই সিরিজের দুই মাসের আয় রেকর্ড বাজেটের ‘মানি হাইস্ট’কে ছাড়িয়ে যাবে।

মূলত কোরিয়ার একদল হতাশাগ্রস্ত বেকার মানুষের স্বপ্ন দেখানোর, অর্থের তাগিদটা বোঝানোর, অঢেল অর্থের জুয়ায় নিজেকে লোভি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অমানবিক, টানটান থ্রিলারে সাজানো হয়েছে এই সিরিজটি। সামাজিকভাবে হতাশাগ্রস্ত কিছু মানুষ অর্থের প্রয়োজনে এবং অতঃপর লোভে কতটা দানবে পরিণত হয় সেটিই দেখিয়েছে এই সিরিজটি।

স্কুইড গেমের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রূপদানকারী নারী চরিত্র হয়েওন জং সিরিজটি মুক্তির পরদিন রাতারাতি তারকা বনে গেছেন। জং তার এক ইন্টারভিউতে বলেছেন, ‘সিরিজটি আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আগের দিন আমাকে তেমন কেউ গুরুত্ব দিতো না। কিন্তু একসঙ্গে কয়েক মিলিয়ন ফলোয়ার বেড়ে গেছে আমার ইনস্টাগ্রামে।’

শুধু জং’ই নন, স্কুইড গেমের মূল চরিত্রে কাজ করা প্রায় ১২ জন চরিত্রের জীবন পাল্টে দিয়েছে এই কোরিয়ান সিরিজ।

সিরিজের নির্মাতা হং ডং হাইয়ুক সিএনএনকে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে বলেছেন, ‘সিরিজটি তৈরি করেছি আমার জীবনের আশেপাশে দেখা পরাজিত মানুষদের কথা কল্পনা করে। যারা অর্থের অভাবে, নিজের জীবনের স্বপ্ন দেখা ভুলে গেছে। এসব বাস্তবতা আমি নিজে চোখে যাপিত জীবনে দেখেছি। তাদেরকে নিয়েই একটা ফ্যান্টাসি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একইসঙ্গে হেরে যাওয়া মানুষগুলো টাকা পাওয়ার আশায় কতটা হিংস্র হতে পারে সেটিও দেখানোর চেষ্টা করেছি। মজার ব্যাপর হলো-আমার এই সিরিজের চিত্রনাট্যে যে চরিত্রের নামগুলো ব্যবহার করেছি, তা আমার জীবনে দেখা আসল চরিত্র। ঐ নামগুলোই আমি ব্যবহার করেছি। এটা আমাদের সহজাত ফ্যান্টাসি। পুরো সিরিজের কেউ একক নায়ক নেই। যা আপনি সিরিজটি দেখবেন। আপনার কাছে মনে হবে আপনি নিজেও গেমের একজন প্লেয়ার।’

সিরিজটির ঈর্ষণীয় সফলতা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘আমার সিরিজটি সফল হবে এটা প্রত্যাশায় ছিল। কিন্তু এভাবে সকল রেকর্ড ভেঙে দেবে তা কল্পনায় ছিল না। তবে ছবিতে হয়তো বিলিয়ন ডলারের গেম দেখিয়েছি। আদতে আমার সিরিজের প্রত্যেক চরিত্রকে সেই অর্থ দিতে পারলে ভালো লাগতো। কারণ ওরা রাত-দিন পরিশ্রম করে সিরিজটিকে সফল করে তুলেছে।’

তবে চিত্রনাট্যকার ও পরিচালকের এই ভাবনাটাও অমূলক নয়। কারণ নেটফ্লিক্সের সঙ্গে এককালীন চুক্তির পাশাপাশি এটি রয়্যালিটিতে বিক্রি করেছে নির্মাতা ও সাইরেন পিকচার্স। তাতে নির্মাতাসহ সকল কলাকুশলী আজীবন রয়্যালিটি পাবেন। সেটি মোটা অঙ্কের নিঃসন্দেহে এবং সিরিজটির যে সাফল্যের সূচক তাতে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে সকলে ধারণা করছেন। ৩০ থেকে ৩২ মিনিটে সাজানো মোট ৯টি পর্বে সাজানো হয়েছে এই সিরিজের প্রথম সিজন। এই সিজনের কোনো সিক্যুয়েল আপাতত করার কোনো প্ল্যান ছিল না। কিন্তু সিরিজটির অভাবনীয় সাফল্যের কারণে এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সসহ সকল বিপণন প্রতিষ্ঠান নির্মাতাকে ডেকে অগ্রীম চুক্তি গড়েছেন। তথ্যসূত্র: সিএনএন, এনবিসিডটকম, দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ