হোম বিনোদন মুসলমানের দেশে কালিমা আর ইসলামকে হেয় করে মুভি তৈরির সাহস হয় কি করে?

মুসলমানের দেশে কালিমা আর ইসলামকে হেয় করে মুভি তৈরির সাহস হয় কি করে?

নিজস্ব প্রতিবেদন 28 Dec, 2020 12:11 PM

বয়কট-কমান্ডো-মুভি-2020-12-28-5fe9772318b54.jpg

বাংলাদেশের মত ৯২ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের মত পবিত্র একটা ধর্মকে চুনকালি মেখে, ইসলামের সবচেয়ে বড় সম্বল কালিমার পতাকাকে অবমাননা করে, রাসুল সাঃ এর সুন্নাত দাঁড়ি টুপিকে হেয় করে, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয়তাকে জঙ্গিবাদের মিথ্যে টাইটেল লাগিয়ে ইসলাম ও দেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সাহস পায় কোথায় দিলোয়ার হোসেন দিলুরা। 
 
বিশ্বের কাছে ওরা আমার দেশকে নিয়ে কেন এমন ষড়যন্ত্র চলছে সেটা আমাদের বুজে আসেনা। উনারা কি চান দেশের শান্ত পরিবেশটাকে অশান্ত করে বিধর্মীদের বাহ বাহ পেতে? নাকি উনারা চান আমার দেশেও ইরাক,ফিলিস্তিন, আফগানিস্তানের মত জঙ্গি নির্মূলের নামে আমেরিকা বরবর হামলা চালাক? কেন বিশ্বের কাছে নিজের দেশকে নিয়ে এই মিথ্যাচার?
 
সত্যিই কষ্ট লাগে যখন আমরা দেখি বাংলাদেশের মত ৯২% মোসলমানের দেশে বসবাস করে, নামের আগে মুসলমান টাইটেল লাগিয়ে দেশের ইসলাম প্রিয় জনগনের আবেগ আর ভালোবাসার জায়গা সেই কালেমা, দাঁড়ি-টুপি, আর ইসলামের প্রতি ভালোবাসাকে জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে যখন মুভি তৈরি করার মত সাহস প্রকাশ করে তখন। 
 
যখন দেখি কমান্ডোর ট্রিজার মুক্তির পর ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা নিউজ করে এই বলে যে,বাংলাদেশে ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা রক্তাক্ত ‘অপারেশন ১২১৬’-র দাপটে। কে রুখবে এই জঙ্গি সংগঠনকে? এর দ্বারা কি প্রমাণিত হয়? আমার দেশ কে কিভাবে রিপ্রেজেন্ট করছে এইসব চলচিত্রের নামে দেশের নামে বদনাম ছড়ানো চলচিত্রকাররা??  
 
উনাদের একটি কথা মাথায় রাখা দরকার যে, কালেমার পতাকা শ্রদ্ধার, সম্মানের, গর্বের, শান্তির। এ পতাকার বিজয়ের জন্য স্বয়ং প্রিয়নবী যুদ্ধ করেছেন, রক্ত ঝড়িয়েছেন, বহু সাহাবায়ে কেরাম জীবন বিলিয়েছেন। এটি দীন ইসলামের অবিচ্ছদ্য প্রতিক। এই পতাকার অবমাননা কোন মুসলিমের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আর আল্লাহর মনোনিত দীন ইসলামের পতাকাকে সন্ত্রাসের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে মুক্তি পেতে যাওয়া কলকাতার নায়ক দেব অভিনিত 'কমান্ডো' মুভিতে। সত্যিই যেই মুভির ট্রিজার দেখে ইতিমধ্যেই দেশের মুসল্মান্দের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। 
 
সদ্য প্রকাশিত মুভির টিজারে দেখানো হয়েছে সারা বাংলাদেশ ছেয়ে গেছে সন্ত্রাসীতে। আর সন্ত্রাসীদের দেখানো হয়েছে দাড়ি, টুপি, পাগড়ী মাথায়। তাদের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে কালেমার ফ্লাগ, শ্লোগান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে 'নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার', আর তাদের কাজকে বোঝানো হয়েছে জিহাদ। আর দেব এসে কালেমার পতাকাধারীদের নির্মূল করে। এরকম কাল্পনিক চিত্রে ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর পাশাপাশি বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ব্যাপারে কী বার্তা দেয়া হচ্ছে!
এ রকম মুভির তৈরি ও চিত্রধারণের উদ্দেশ্য কী? এটা কী ইসলাম অবমাননা নয়? এটাকি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ভুল ভাবে প্রকাশ করা নয়? এটা কি বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা নয়? 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুসলমানের দাড়ি,টুপি,কালেমার পতাকা ও ইসলামকে অবমাননা করে তৈরি মুভিটি দেলোয়ার হোসেন দিলের চিত্রনাট্যে কমান্ডো চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় পরিচালক শামীম আহমেদ রনি। আর এ চলচ্চিত্রটির প্রযোজক বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া ও শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার মো: সেলিম খান।
 
তাদেরকে বলবো আপনারা পারলে ভারতে যেয়ে হিন্দু ধর্মের প্রতীক গুলোকে এভাবে আক্রমন করে সন্ত্রাসী 'আর এস এস' বিরোধী মুভি তৈরি করুন, দেখেন তো পারেন কিনা! কিন্তু তা আপনারা করতে যাবেন না জানি! তাহলে বাংলাদেশে এসে ইসলাম অবমাননার হেতু কী?
 
আর আমাদের মুসলিমদের উচিত কালেমার পতাকা যে ইসলামে অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর চেতনা ধারণ করা যে অপরিহার্য দায়িত্ব তা ব্যাপক ভাবে তুলে ধরা ও প্রচার করা। এর বিজয়ের জন্য যুগে যুগে মুসলিম কিংবদন্তিদের স্বর্ণালী উপাখ্যান সামনে আনাও এখন সময়ের দাবি।
 
আশা করবো বাংলাদেশ সরকার ফারুকীর হলি আর্টিজেন মভির মতো কমান্ডো মুভিরও মুক্তির অনুমতি না দিয়ে প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন। 
 
এদিকে ট্রিজার মুক্তির পর থেকেই দেশের মুসলমান স্যোশাল মিডিয়ায় কমান্ডো মুভিকে বয়কটের ডাক দিয়েছে। যেখানে তাঁরা  নিচের  ট্যাগ  গুলো  জুড়ে  দিয়েছে  নিজেদের  পোস্টে। যা  ইতিমধ্যেই  ১০  হাজার  বার  ব্যবহার করা হয়েছে। 
 
আসুন আমরাও ইসলাম ও কালিমা কে এই অপমানের হাত থেকে বাঁচাতে কমান্ডো মুভিকে বয়কট করি এবং বাংলাদেরশের যেই পরিচালক ইসলামকে অবমাননা করার মত সাহস দেখিয়ে এই মুভি নির্মাণ করেছে, যেই পরিচালক বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে জঙ্গিবাদ হিসাবে প্রকাশ করে দেশদ্রোহিতার পরিচয় দিয়েছে তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা হয় সেই জন্য দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি। 

আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ