হোম বিশেষ সংবাদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষক খসড়া তালিকায় 'নীলক্ষেত ষড়যন্ত্র'

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষক খসড়া তালিকায় 'নীলক্ষেত ষড়যন্ত্র'

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন 23 Feb, 2021 4:43 PM

সরকারি-মাধ্যমিক-বিদ্যালয়-সিনিয়র-শিক্ষক-খসড়া-তালিকায়-'নীলক্ষেত-ষড়যন্ত্র'-2021-02-23-6034dc3f4513c.jpg

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের “সিনিয়র শিক্ষক” পদোন্নতি জটিলতা নিয়ে অনুসন্ধানে একদল দুর্বৃত্তের দুর্নীতি ও অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসছে।

এই পদে পদোন্নতির জন্য গত বছরের ১লা ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া গ্রেডেশন তালিকায় নিয়োগ বিধিতে আরোপিত সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড ডিগ্রী অর্জনের শর্ত অসম্পন্নকারী শিক্ষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে সেই তালিকায় আপত্তি জানিয়ে অনলাইনে প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়ে।

পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি বছরের ২১জানুয়ারি  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে উপপরিচালক(মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত খসড়া গ্রেডেশন তালিকায় যারা শর্তাধীন সময়ের মধ্যে বিএড ডিগ্রী অর্জনের শর্ত মানেনি তাদের নামের মন্তব্য কলামে "পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড সম্পন্ন করেনি “ উল্লেখ করে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর নতুন করে আর কোনো খসড়া গ্রেডেশন তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১০ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির প্রথম সভায় বাধাই করা খসড়া গ্রেডেশন তালিকা পাঠানো হয়। প্রথম দিনের সভা শেষে সংশোধনের যুক্তি দেখিয়ে নতুন করে আরেকটি তালিকা পরের দিন সংশোধন করে পাঠানো হয়েছে। তাতে দেখা যায় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকার মন্তব্য কলামটি কৌশলে মুছে দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় এহেন অপকর্মের মূল পরিকল্পনাকারী উপপরিচালক(মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন এবং সার্বিক সহযোগিতা করে নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম। এই অনৈতিক অপকর্মটি গভীর রাতে ঢাকার নীলক্ষেতের একটি বাণিজ্যিক দোকানে সম্পন্ন হয়। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, শিক্ষা ভবনের ৭সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ কমিটির আহবায়ক শাহ মোঃ আমীর আলী জানেন-ই না খসড়া তালিকা থেকে মন্তব্য কলামটি মুছে দিয়ে গোপনীয় একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধান ডেস্ককে তিনি বলেন, 'আমি ঐ সময় ছুটিতে ছিলাম। আজিজ সাহেবের সাথে আপনারা যোগাযোগ করলে তিনি বলতে পারবেন।" 

আশ্চর্যজনক বিষয় এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সবাই দায়সারা যুক্তি দিয়ে কেটে পড়তে চাচ্ছে। এমনকি কমিটির আহবায়ক এই বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন। সকলের ভাষ্যমতে সব কিছু বাস্তবায়নের দায়িত্ব মোঃ আজিজ উদ্দিন একা নিজের কাঁধে নিয়েছেন। কিন্তু কেন? কি স্বার্থ আছে এর পেছনে? তিনি কি জানেন না চাকুরির শর্ত ভঙ্গ করা একটি ফৌজদারী অপরাধ? অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কথা দিয়ে বিধিবিধান অনুসরণের ফুলঝুরি আর বাস্তবের মাঝে বিশাল ফারাক! একজন উপপরিচালক এত দম্ভ কিভাবে দেখায় জনমনে এই প্রশ্ন প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট বুঝা যায়- সর্ষের মধ্যে ভূতের বসবাস। এই ভূত যারা তাড়াবেন তাদের সদিচ্ছা কতটুকু আছে সময় কেবল বলে দিবে!


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ