হোম বিশেষ সংবাদ ১ লাখ তাঁতী মহাজন ও শ্রমিকের মানবেতর দিনযাপন; দেখার কেউ নেই!

১ লাখ তাঁতী মহাজন ও শ্রমিকের মানবেতর দিনযাপন; দেখার কেউ নেই!

মোঃ জুয়েল হোসেন || জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ 20 Apr, 2021 4:52 PM

১-লাখ-তাঁতী-মহাজন-ও-শ্রমিকের-মানবেতর-দিনযাপন;-দেখার-কেউ-নেই!-2021-04-20-607eb282b7810.png

করোনায় মহাসংকটে শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প! করোনার ক্রান্তিকালে সৃষ্ট প্রকট পুঁজি সংকট, রং, সুতার অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন বন্ধ ও উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র বিক্রি না হওয়ায় দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প মহাসংকটে পড়েছে।

গেলো বছর লকডাউনের শুরুতে শাহজাদপুরের সব তাঁত কারখানা আর কাপড়ের হাট টানা ৪/৫ মাস বন্ধ ছিলো ও পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবলে ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতীরা পুঁজি হারিয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে । সেই ক্ষতি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। তাঁতবস্ত্র ব্যবসায়ের ভরা মৌসুমে এরই মধ্যে ফের লকডাউনে পড়ে শাহজাদপুরের প্রায় ১ লাখ তাঁতী ও শ্রমিকেরা তাদের জীবন জীবীকার প্রশ্নে চোখেমুখে রীতিমতো সর্ষের ফুল দেখছে।

গেলো বছর ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও পুঁজায় এবং চলতি বছরেও পহেলা বৈশাখ ও আসন্ন রমজানের ঈদকে উপলক্ষ করে তাঁতবস্ত্রের বেচাকেনায় মারাত্বক ধ্বস নামায় কোমড় ভেঙ্গে গেছে এলাকার সিংহভাগ তাঁতী ও মহাজনদের। তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আসলেও করোনার প্রভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

করোনার ক্রান্তিকালের আগেও শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার ব্যাপক চাহিদা ছিলো দেশÑবিদেশ জুড়ে। এখন নেই আর সেই চাহিদা ও কদর। নেই তাঁতপল্লীর খট্ধসঢ়;খট্ধসঢ়; শব্দ আর লাখ লাখ তাঁতী ও শ্রমিকের কর্ম প্রাণচাঞ্চল্যতা। পুঁজি সংকট কাটিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ কুটিরশিল্প তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর রুটিরুজি নিশ্চিতে এখনই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতী ও শ্রমিকেরা। স্থানীয় তাঁতী ও মহাজনেরা জানায়, দেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রায় ৩ লাখ তাঁতী ও শ্রমিকের বসবাস।

বছরখানেক আগেও শাহজাদপুরের তাঁতপল্লীতে প্রায় ১ লাখ পাওয়ার লুম ও ৫০ হাজার হ্যান্ডলুম সচল থাকলেও করোনাসহ নানা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৮০ হাজার তাঁত। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ১ লাখ তাঁতী ও শ্রমিক। অন্য কোন কাজ না জানায় বেকার এসব তাঁতী ও শ্রমিকেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে। পুঁজি হারানো তাঁতীদের অনেকেই পরবর্তীতে ধারদেনা ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তাদের সব প্রচেষ্টা বিফলেই রয়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ, তুলার দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সকাল-বিকাল সব কাউন্টের সুতার দাম বাড়াচ্ছে অসাধু সূতা ব্যবসায়ীরা। উচ্চ মূল্যে রং সুতা কিনে কাপড় বানালেও হাটের পাইকারেরা তা বেশি দামে কিনতে নারাজ। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় ইতিমধ্যেই পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেছে অনেকেই। লোকসানের ভার সইতে না পেরে আবার অনেকেই অন্য পেশায় ঝুঁকছে। অনেকে আবার রিক্সা-ভ্যান চালনাসহ নানা পেশায় আত্মনিয়োগ করেছে। এলাকার বেশ কয়েকজন প্রান্তিক তাঁতী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ‘দীর্ঘ সময় ধরে শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প মহাসংকটে রয়েছে। একদিকে, কাচাঁমালের দাম বৃদ্ধি ও অন্যদিকে, উৎপাদিত তাঁতবস্ত্র হাটে বিক্রি না হওয়ায় পুঁজি ভেঙ্গে খরচ করতে করতে পুঁজিশূণ্য হয়ে পড়েছে এলাকার সিংহভাগ তাঁতী ও মহাজন।

ফলে বাধ্য হয়ে তারা একের পর এক তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে কিছু তাঁতী ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে পুনরায় তাঁত সচল করলেও উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে না পেয়ে দিনের পর দিন ঋণের অথৈ সাগরে নিমজ্জিত হয়ে প্রতিনিয়ত হাঁ-হুতাশ করছেন। দেশের সর্ববৃহৎ কুটিরশিল্প ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প রক্ষায় কেউ দাঁড়াচ্ছে না তাদের পাশে।’

স্থানীয় তাঁত শ্রমিকেরা জানান, ‘কাপড়ের হাটে ক্রেতা না থাকায় মহাজন কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে দিনেদিনে তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আগে সপ্তাহে ৭ দিনই কাপড় বুঁনতে পারলেও করোনার ক্রান্তিকালে তদস্থলে সপ্তাহে ৩ দিন কাজ করতে পারছে শ্রমিকেরা। তাও আবার একবেলা কাজ থাকলে অন্য বেলায়ই তা বন্ধ থাকে।

এত কিছুর পরও তাদের মতো চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয়, যাদের বুক ফাটলেও মুখ ফোঁটেনা, যাদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে; এমন হাজার হাজার তাঁত শ্রমিকদের মজুরিও আগের চেয়ে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এলাকার প্রায় অর্ধলাখ তাঁত শ্রমিক খেয়ে না খেয়ে মানবেতর


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ