হোম রাজনীতি রায়পুর পৌরসভা নির্বাচন: প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন: এক মেয়রসহ তিন কাউন্সিলর প্রার্থী কে জরিমানা

রায়পুর পৌরসভা নির্বাচন: প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন: এক মেয়রসহ তিন কাউন্সিলর প্রার্থী কে জরিমানা

মোঃ রবিউল ইসলাম খান,লক্ষীপুর প্রতিনিধি 25 Feb, 2021 6:56 PM

পৌরসভা নির্বাচন-2021-02-25-60379e6a84099.jpg

লক্ষীপুরের রায়পুরে পৌরসভা নির্বাচনে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা।


প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে মাইকিং সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্টরা যেন এক রকম নির্বিকার। তাদের এমন ভূমিকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব দেখার জন্য তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। তবে প্রার্থীদের দাবি আচরণবিধি মেনেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) রায়পুর বাসটার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে পথসভা করেছেন জেল যুবলীগ।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা। এতে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

অভিযোগ উঠেছে আচরনবিধি লঙ্ঘন করে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) একই স্থানে আওয়ামীলীগ উদ্যোগে পথ সভার মঞ্চ প্রস্তুত চলছে। এতে দলের চট্রগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা- উপজেলার নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু এরিপোট লেখা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে সভা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নৌকার প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটের সহ তিন কাউন্সিলর প্রার্থী কে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আক্তার জাহান সাথি ও রিপা মনি দেবি।


রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত অভিযোগ করেছেন দুই মেয়র ও কয়েকজন সাধারণ কাউন্সিলর কাউন্সিলর প্রার্থীরা। অভিযোগকারী বিএনপি, স্বতন্ত্র মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী। জানতে চাইলে পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন ভাল  ভাবেই হচ্ছে। দুই মেয়র ও তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেছেন।


আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিচ্ছি না এমন অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

তিনি বলেন, কেউ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করলে এর দায়-দায়িত্ব কমিশন নিরূপণ করবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি। আচরণবিধির ৭-এর ‘খ’ ধারায় রয়েছে, কোনো প্রার্থী পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা আগে তাহার স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যাতে ওই স্থানে চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে চলছে তার উল্টো। এসব দেখতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
আচরণবিধির ২০-এ বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা  তাহার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিধিও মানছেন না প্রার্থীরা।


আচরণবিধিতে দুপুর ২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে বলে উল্লেখ আছে। শুধু তাই নয়, রাত আটটার পর কোনো প্রার্থী গণসংযোগও চালাতেপারবেন না। কিন্তু পৌরসভার অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইক বাজানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রচারও চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া প্রচারে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও তাও মানছেন না অনেকে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পৌরসভার মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে গণসংযোগ করছি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। নেতাকর্মী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে বলে দিয়েছি, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারনে অর্থদন্ডকরেছেন ম্যাজিষ্ট্রেট তা তিনি স্বীকার করেন তিনি।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ