হোম লাইফস্টাইল পড়াশোনাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার কিছু টিপস

পড়াশোনাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার কিছু টিপস

মোহাম্মদ হারুন মিয়া || সহকারী পরিচালক ( UGC ) 15 Feb, 2021 11:54 AM

good-study-tips-2021-02-15-602a11291d462.jpg

পড়াশোনা একটি কঠিন কাজ হওয়া সত্ত্বেও মানুষ তাকে নিজের আয়ত্ত্বে স্থান করে নিয়েছে সহজভাবে। সবাই পড়াশোনা করতে পারে না। পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন সাধনা। আর সাধনাই শিক্ষা। সাধনাই মানুষকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষমতা দান করে। নিয়মিত পড়াশোনা করলে কঠিন কাজও সহজে আয়ত্ত্বে আনয়ন করা সম্ভব হয়। নিচে পড়াশোনার ভালো অভ্যাসের কতিপয় টিপস নিয়ে আলোকপাত করা হলো- 

১. নিজেকে অন্য জনের সাথে তুলনা না করাঃ

পড়াশোনা নিজের, একান্তই নিজের। নিত্য দিনের। এটি একেবারেই বৈষয়িক। পড়াশোনার বিষয়ে নিজেকে অন্য জনের সাথে তুলনা না করাই শ্রেয়। নিজের পড়াশোনার স্পৃহা, প্রতিদিন পড়াশোনার হিসাব (কত ঘন্টা, কোন কোন বিষয় ইত্যাদি) করা দরকার। নিজেরই পড়াশোনার হিসাব নিজেকে জানতে হবে, নিজেকেই মানতে হবে, নিজেকেই নিজের মনের করে করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা করলে ভালো না করার কোন উপায় নেই।

২. শ্রেণি কক্ষের শিক্ষাকে প্রাধিকার দেয়া:

শ্রেণি কক্ষের পড়াশোনা মনোযোগসহকারে করলে, পড়াশোনার প্রতি নিজে অনুপ্রাণিত হলে প্রাইভেট টিউটরের কোন দরকার নেই। সেকালে প্রাইভেট টিউটর ছিল না। অনেকেই ভালো ফলাফল করেছে। একালে দেখছি, প্রাইভেট টিউটর না হলে যেন একেবারেই চলে না। শিক্ষার্থীরা কেমন যেন প্রাইভেট নির্ভর, কোর্চি নির্ভর, টিউটর নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে ভালোটা যেমন হচ্ছে, মন্দাটাও তেমন হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় নিজের মাথাকে খাটাচ্ছে না।  নিজে কিছু না করে টিউটরকে দিয়ে সবকিছু করিয়ে নিচ্ছে। এটা কোন ভালো অভ্যাস নয়। বুদ্ধিমানের তা করে না।  

শ্রেণি কক্ষে শিক্ষকের পাঠদান, পাঠদানে শিক্ষকের দেয়া বিভিন্ন উপমা, অবয়ব, প্রকাশ ভঙ্গি ইত্যাদির প্রতি শিক্ষার্থী অধিক মনোযোগী হলে অবশ্যই ভালো ফল বয়ে আনতে পারবে। ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজের আগ্রহ, ইচ্ছা এবং সদ্দিচ্ছার। সদ্দিচ্ছার কাছে পৃথিবীর সবকিছুই ইতোমধ্যে হার মেনেছে।

পড়াশোনার জন্য নিজেই যথেষ্ট। সদিচ্ছা ছাড়া কোন কাজে সফলতা আনয়ন করা যায় না। পড়াশোনায় ভালো অভ্যাসে গড়ে তুলতে সবার আগে প্রয়োজন ভালো পরিবেশ, ভালো বসতবাড়ির। এই ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে লাইব্রেরি, লাইব্রেরি ওয়ার্ক। লাইব্রেরিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে অনায়াসে সবাই পড়াশোনা করতে পারে, কোন রকম বাধা-নিষেধ ছাড়াই। যেটা বাড়িতে করা সম্ভব নয়। লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়াশোনা করলে বৈষয়িক আরো অনেক লেখকের বই একত্রে পাওয়া যায়। যা নোট, এ্যাসাইন্টমেন্ট তৈরিতে সাহায্য করে। ভালো নোট, এ্যাসাইন্টমেন্ট ভালো ফলাফলের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

৩. বিষয় অনুযায়ী পড়াশোনা করাঃ  
যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে ভালো লাগে, সে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা দরকার। মনের নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে নেই। পড়াশোনা বেলায় এটি আরো বেশি জরুরি। পড়াশোনা নিয়ে শিক্ষার্থীকে চাপাচাপি করতে নেই, চাপাচাপি করলে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। ফাইনাল সিদ্ধান্ত নিয়ে পড়াশোনার কাজে লাগা উচিত।

৪. কোর্স/সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করা:  
কোর্স/সিলেবাস অনুযায়ী বছরের শুরু থেকে পড়াশোনা করা দরকার। সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত সকল অধ্যায় নিয়মিত ও ভালো করে পড়াশোনা করা উচিৎ। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনাকে অনুমান নির্ভর, জুয়াখেলার মত মনে করে তার পছন্দ মতো কিছু অধ্যায় নির্বাচন করে পড়াশোনা করে। এটি ঠিক নয়। এতে ভালো কিছু শেখা যায় না, ভালো কিছু করা যায় না এবং এর ফলও ভালো হয় না। অল্প পড়াশোনা করে জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করা যায় না। অল্প পড়াশোনায় কেবলমাত্র পরীক্ষা পাস করা যায়। মোদ্দকথা হলো - সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত সকল অধ্যায়কে ভালো করে নিয়মিতভাবে পড়াশোনা করলে ফল ভালো না হওয়ার কোন উপায় নেই।

৫. সিরিয়াস, বি-সিরিয়াস হওয়া ঃ  
প্রতিদিনের রোজনামচায় পড়াশোনাকে প্রাধিকার দেয়া একজন শিক্ষার্থীর অন্যতম কাজ। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম, আমোদ-প্রমোদও মানুষের নিত্য দিনের সাথী। এগুলোকে পড়াশোনার পাশাপাশি রাখতে হবে। এগুলোকে ব্যতিরেকে শিক্ষার্থী একেবারেই চলতে পারবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি তাই একজন আদর্শ শিক্ষার্থীকে  নি¤েœর বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে - যেমন : 
ক. খাদ্য মানুষের শক্তি যোগায়। শক্তি মানুষকে কাজ করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পড়াশোনার জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রতি ৪/৫ ঘন্টা অন্তর অন্তর খেতে হবে, পেট খালি না রাখা যাবে না। নিয়মিত ও পরিমিত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় উপকারের। নিয়মিত খাবারের সাথে টাটকা ফলমূল, দুধ, শাকসবজিসহ সিদ্ধ জাতীয় খাবার খেতে হবে। ফ্রাস্ট ফ্রুট ও প্রোটিন জাতীয় খাবার না খাওয়াই উচিৎ। এ জাতীয় খাবার মানুষকে পীড়া দেয়  এবং স্বাস্থ্যকে অকার্যকর করে তোলে। তবে মুখ রোচকের জন্য মাঝে মধ্যে খাওয়া যেতে পারে। 
খ. একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর প্রতিদিন খেলাধুলা, ব্যায়াম, হাঁটাচলা, জগিং, ইয়োগা, গান-বাজনা ও নৃত্য পেিরবেশন করা দরকার। এছাড়াও ধ্যান করার জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমপক্ষে ১ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করা দরকার। ধ্যান মানুষের শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীর ভালো থাকলে, মন ভালো থাকে আর মন ভালো থাকলে পড়াশোনা করতেও ভালো লাগে। শরীর, মনকে সতেজ ও কার্যকর রাখার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইদানিং ধ্যান করার জন্য কিছু কোর্স চালু করেছে। শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনে এ কোর্সগুলো করানো যেতে পারে। প্রবাদ আছে - স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।    
গ. একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন কমপক্ষে নিয়মিত ৬/৮ ঘন্টা ঘুমানো দরকার। নিয়মিত ঘুম ক্লান্তি দূর করে, মনে প্রশান্তি আনয়ন করে, শরীরকে সতেজ রাখে। সতেজ শরীর নব উদ্দীপনায় অধিক পড়াশোনা করতে সাহায্য করে। সুতরাং পড়াশোনার জন্য সিরিয়াস, বি-সিরিয়াস হওয়া দরকার। তা না হলে জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব হবে না।

৬. বার বার পড়া:   
পড়াশোনাকে সহজ করার জন্য, সহজে মনে রাখার জন্য, বার বার পড়া দরকার। বার বার পড়লে কোন ক্ষতি নেই বরং আছে উপকার। বার বার পড়াশোনার ফলে শরীর ও মনে ক্লান্তি-অলসতা আসতে পারে, বরিং লাগতে পারে। বরিং লাগলে বিষয় পরিবর্তন করে, সহজ বিষয় পড়া যেতে পারে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে একটুকু-আধটুকু বিশ্রাম নিলে ভালো হয়। বিশ্রাম কাজে গতি আনে, খাবারের মতো শরীরে শক্তি দানে সাহায্য করে। 

৭. ভালো করে বুঝে পড়া ঃ  
পড়াশোনা-তো পড়াশোনাই। এটি খেলা নয় যে, একটু কম করলে হয়ে যাবে। পড়াশোনা নিয়মিত মনোযোগের সাথে করতে হয়। অমনোযোগী শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করে, কারণ পড়ার সময় যে বিষয়টি পড়ে তা ভালো করে পড়ে না,  বুঝে পড়ে না। ভালো করে জেনে, বুঝে, চোখ-কান খোলা রেখে পড়াশোনা করলে মনে থাকে বেশি। জেনে, বুঝে পড়াশোনা করলে পৃথিবীর যে কোন স্থানে, যে কোন সময়, যে কোন মানুষের সাথে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করা যায় সহজে। এতে মনের জোর থাকে বেশি। ভালো জানার ব্যাপারটাই কেমন যেন আলাদা।

৮. জোরে জোরে পড়া ঃ  
পড়াশোনাকে সহজে স্মৃতি ধারণ করে রাখার জন্য জোরে জোরে পড়তে হয়। জোরে জোরে পড়লে সহজে তা স্মৃেিত ধারণ করা যায়, মনে থাকে বেশি। আর একবার স্মৃতিতে ধারণ করতে পারলে তা সহজে স্মৃতি থেকে উবষবঃব  হয়ে যায় না। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডিন্ট আব্রাহাম লিংকন জোরে জোরে পড়তেন। জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলতেন - জোরে জোরে পড়লে আমার স্মৃতিতে তা ধরে বেশি এবং আমি তা সহজে মনে রাখতে পারি। 

৯. পড়ার পর লিখে রাখা ঃ  
পড়ার পর লিখে রাখা আরেকটি গুণ। এগুণের অধিকারী সবাই হতে পারে না। এটি অর্জন করতে হলে বার বার পড়ার পর, বার বার লিখতে হয়, বার বার লিখলে তা বেশি মনে থাকে। এছাড়াও পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পয়েন্ট, বানান, শব্দের অর্থ জেনে, বুঝে পড়া এবং তা লিখে রাখা ভালো। নতুন নতুন শব্দগুলোকে নোট খাতায় লিখে রাখলে শব্দভান্ডারের গভীরতা বাড়ে এবং কালান্তরে তা একটি ছোট আকারের অভিধানেও পরিণত হতে পারে। প্রবাদ আছে - দশবার পড়ার চেয়ে একবার লেখা ভালো।

১০. পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ঃ  
মানুষ অভ্যাসের দাস। মানুষ তার জীবনে যে অভ্যাস গড়ে তুলবে, সে সেই অভ্যাসেরই দাসত্ব করবে। এটি চিরন্তন। অভ্যাস গঠন করা খুবই জরুরি। তবে খারাপ অভ্যাস নয়, ভালো অভ্যাস। ভালো অভ্যাস গঠনে কোন ক্ষতি নেই।  খারাপ অভ্যাস গঠন করলে জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা, দুর্ভোগ। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে চারিত্রিক অবক্ষয়কেও  আলিঙ্গন করে। এই জন্য ছাত্রাবস্থা থেকেই ভালো অভ্যাস অর্থাৎ পড়াশোনার অভ্যাস গঠন করা উচিৎ। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন, শোভাকাঙ্খি এবং সর্বোপরি প্রতিবেশীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। 

১১. মুখস্তকে না বলা ঃ  
পড়াশোনার বিষয়ের বিষয়বস্তু না জেনে, না বুঝে, না শোনে, না দেখে তোতা পাখির মতো মুখস্ত করা ঠিক নয়। না জেনে, না বুঝে পড়াশোনা শুধু মুখস্ত করলে তা দীর্ঘ স্থায়ী হয় না। কোন কারণে মুখস্ত বিদ্যা একবার ভুলে গেলে তা আর স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। পঠিত বিষয়ের বিষয়বস্তু বুঝে পড়লে তা স্মৃতিতে ভেসে উঠে যে কোন মুহুর্তে। অতএব বলা যায় - পড়াশোনা মুখস্তে নয়, বুঝলেই বিজয়। 

১২. রিভিউ করা ঃ  
পড়াশোনাকে পর্যবেক্ষণ ও মনে রাখার জন্য প্রতিটি বিষয়ের অধ্যায়/পয়েন্টগুলোকে যথাসম্ভব সময় দেয়া উচিৎ। বড় অধ্যায়কে ছোট করে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। সহপাঠিদের সাথে পড়াশোনার নানা দিক/বিষয় নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠা। পঠিত বিষয়কে বার বার রিভিউ করা। রিভিউ পড়াশোনাকে স্মৃতিকে ধারণ করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। বুদ্ধিমান শিক্ষার্থীরা নিয়মিত রিভিউর কাজটি করে থাকে মনের আনন্দে।  

১৩. পূর্বাভিনয় করা/মহড়া দেয়া ঃ  
যে কোনো কাজকে নিজের আয়ত্তে¡ আনয়ন করার পূর্ব শর্ত হলো চর্চার, অধ্যবসায়ের, পূর্বাভিনয় ও মহড়ার। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আনয়ন করা যায় না। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। পড়াশোনাকে মনে রাখতে, স্মৃতিতে ধারণ করতে, প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে উত্তরমালায় লিখতে পূর্বাভিনয়/মহড়া করার প্রয়োজন অনেক বেশি। তাইতো বলা হয়ে থাকে - পূর্বাভিনয় ও মহড়া কঠিন বিষয়কে সহজ করে দেয় নিমিষেই।  

পরিশেষে একটি কথাই বলব, পড়াশোনা নিজের, শুধুই নিজের। পৃথিবীতে সকল জিনিসের ভাগ-বাটোয়ারা হয়। পড়াশোনাই একমাত্র জিনিস যার কোন ভাগাভাগি হয় না। এটিকে ভাগাভাগি করলে তেমন কাজেও আসে না। কারণ পড়াশোনার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে থাকে। পড়াশোনাকে ধার দেয়া-নেয়া করা যায় না। ধার দেয়া-নেয়া করলে তা বেশি দিন টিকে না। ধার দেয়া-নেয়া পড়াশোনা দিয়ে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না, ব্যক্তিত্ব প্রস্ফুটিত হয় না সমভাবে। এটি এমনই এক সত্ত¡া যা অন্যকে আলিঙ্গন করে না, অন্যের সাথে মিশাতে চাইলেও মিশে না। মিশলেও কেমন যেন একটা রকমফের থেকে যায়। তাই বলা যায় - ভালো মানুষ, সুশিক্ষিত মানুষ, বিকশিত মানুষ এবং সুধীজন হতে হলে ভালো পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। আসুন আমরা এই মিশিলের কাতারে শামিল হই।


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ