হোম শিক্ষা করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন

করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 04 Mar, 2021 12:58 PM

করোনাকালীন-শিক্ষার্থীদের-মানসিক-স্বাস্থ্যের-পরিবর্তন-2021-03-04-6040851b52c5e.jpg

বৈশ্বিক মহামারী করোনায় শিক্ষার্থীদের নানা কর্মকাণ্ডে মানসিক ভাবনায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে,বর্তমানে দেশে করোনা মহামারীর কারণে মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার এবং করোনাকালীন সময়ে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি এখন যেন শুধু পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই,ছড়িয়ে পরেছে বাংলাদেশের মতো নিম্নআয়ের দেশেও।তবে কেন বাড়ছে এ সংখ্যা,সে প্রশ্ন সবার।

করোনা মহামারীর উৎপত্তি হয়েছিল গতবছর অর্থাৎ ২০২০ সালে মার্চ মাসে।এরপর সারা বিশ্বে ঘোষণা করা হয় লকডাউন।বাংলাদেশও বাদ পরে নি মহামারীর ভয়াবহতা থেকে।জানা গেছে,এ পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ।এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন অধিকাংশ এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার।অপরদিকে,শুধুমাত্র করোনাকালীন সময়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ,যাদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

কেন এবং কীভাবে বাড়লো আত্মহত্যার এ সংখ্যা সেই প্রশ্ন সকলের।বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন বেছে নিচ্ছেন এই আত্মহত্যার পথ।অধিকাংশ মনোবিদ এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে,মানসিক স্বাস্থ্যের যথাযথ যত্ন না নেয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে,বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশা,হীনমন্যতা,স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন,ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা,পারিবারিক কলহ,ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি,পারিপার্শ্বিক প্রভাব,এছাড়া আরও নানা কারণ।অধিকাংশের মধ্যে কাজ করছে বিষণ্নতা যা কিনা পরবর্তীতে তাদের ধাবিত করছে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে।

এক্ষেত্রে সমাধান খুঁজতে গিয়ে জানা যায়,কিছু সামাজিক ধারণা এবং বদ্ধমূল কুসংস্কারের কারণে এখনও দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কথা বলতে বা মনোবিদদের শরণাপন্ন হতে চান না।তবে বেশিরভাগ ঘটনায় বলা হয়েছে,পারিবারিক পর্যায় থেকেই তারা সেই সাহায্য পাচ্ছেন না,উল্টো পরিবার থেকেই হতে হচ্ছে নানা কারণে অপমানিত এবং উপেক্ষিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে,বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে,বিশেষ করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের।তারা মনে করেন,যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে যদি সবাই সোচ্চার না হন তবে পরবর্তীকালে এ সংখ্যা ভয়াবহ আকারে বাড়বে এবং জাতির পরবর্তী প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ আমরা অচিরেই হারাবো।তারা পরামর্শ দেন,ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায় থেকেই সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হতে।এছাড়া স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পর্যায় থেকেও তৈরী করা উচিৎ জনসচেতনতা।গোঁড়ামি এবং কুসংস্কারের কবলে পরে কেউ যেন মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কথা বলতে পিছিয়ে না যান সে ব্যাপারেও তারা খেয়াল রাখতে বলেছেন।

 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ