হোম সাহিত্য ও সংস্কৃতি বইয়ের সংস্পর্শ কিভাবে মানুষের জীবনকে আলোকিত করতে সক্ষম

বইয়ের সংস্পর্শ কিভাবে মানুষের জীবনকে আলোকিত করতে সক্ষম

মোহাম্মদ হারুন মিয়া || সহকারী পরিচালক ( UGC ) 06 Mar, 2021 1:17 PM

বইয়ের-সংস্পর্শ-কিভাবে-মানুষের-জীবনকে-আলোকিত-করতে-সক্ষম-2021-03-06-60432c8b909bd.jpg

বই মানুষের নিত্য সঙ্গী। বইয়ের সংস্পর্শে এসে মানুষ জীবনকে আলোকিত করতে সক্ষম হয়। জীবন চলার পথকে সুন্দর ও সার্থক করে গড়ে তুলতে বইয়ের কোন বিকল্প নেই। তবে সে বই হতে হবে ভালো বই, অবশ্যই ভালো বই।

ভালো বই মানুষকে ভালো মানুষে পরিণত করে, সু-পথে পরিচালিত করে। মন্দ বই মানুষকে মন্দ মানুষে পরিণত করে, কূ-পথে পরিচালিত করে। এবার ভালো ও মন্দ বইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিচে আলোকপাত করা যেতে পারে:

ভালো-তো সব সময়ই ভালো। ভালোকে মন্দ বলা যায় না। মন্দকে আবার ভালো বলা যায় না। মন্দকে ভালো বললেও তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। যেসব বই শোভন চিন্তা-ভাবনার কথা বলে, সুকুমারবৃত্তি আনয়ন করে, মনে জাগ্রত করে স্বপ্ন, স্বপ্নকে রাঙিয়ে তোলে, মনকে শুভ কামনার দিকে, শুভ ভাবনার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয়। মনের সকল জড়তা দূর করে মনকে কু-চিন্তা, দু:চিন্তা, কু-প্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখে, মনের ভেতরের স্বার্থপরতা হিংসা, অপরাধবোধ দৃষ্টিগোচর করতে সহায়তা করে এমন বই পড়া উচিৎ। এগুলোই ভালো বই। অর্থাৎ যেসব বই ভালো মানুষ হয়ে উঠার পথ দেখায় সেসব বইই নি:সন্দেহে ভালো বই। 

পৃথিবীতে এমনকিছু বই আছে যা মানুষকে কু-পথে পরিচালিত করে, মনের সংকীর্ণতা, জটিলতা, কুটিলতা, স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতরতা, ক্ষুদ্রতা, দ্বন্ধ দূর করে না এমন বইই মন্দ বই। এই সব বই পড়া উচিৎ নয়। মন্দ বই মানুষকে স্বার্থপর করে তোলে, মনের ভেতরে জাগ্রত করে জড়তা, হিংসা। অর্থাৎ যেসব বই পড়লে মন পুলকি হয় না, মন আলোকিত হয় না, মন বিকশিত হয় না, মনের দরজা-জানালায় আলোর জলকানি আসে না,  সুন্দর মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে না, জীবনকে থামিয়ে দেয়, জীবনের মোড় পরিবর্তন না করে জীবনকে বিভীষিকাময় করে তোলে  অর্থাৎ যেসব বই ভালো মানুষ হয়ে উঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে সেসব বইই নি:সন্দেহে মন্দ বই। এই সব বই পড়া উচিৎ নয় আমাদের, আমাদের নতুন প্রজন্মের। 

বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু, মানুষের মনের আলো। জীবনে শান্তির দূত। বন্ধু মানুষের জীবনে সুসময়ে আসে। দু:সময়ে কেটে পড়ে. কিন্তু একখানি বই তা কখনো করে না, সে অনন্ত যৌবনা। সে শুধু দিতে জানে, নিতে জানে না। বিনিময়ে সে কিছুই চায় না। পৃথিবীতে বইয়ের মতো এমন পরম বন্ধু আর কেউ হতে পারে না। তাই বইয়ের তুলনা বই, শুধু বই। প্রবাদ আছে - সুসময়ে বন্ধু বটে অনেকেই হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়।

বই মানুষের অজ্ঞতা, অন্ধকার দূর করে। জীবনে প্রদীপ জ্বালাতে সাহায্য করে। মানুষকে জ্ঞানে, কর্মে, মাধূর্য্য,ে ব্যবহারে, দক্ষতায় ভালো করে তোলো। প্রবাদ আছে - বই কিনে কেউ দেওলিয়া হয় না। বেশি করে বই পড়ুন, বই মানুষকে মহৎ করে। 

মনকে আলোকিত করে, মানবিক বিকাশ এবং মানবিকীকরণে স্বপ্ন দেখায়, মনে শুভ বুদ্ধির বার্তা বয়ে আনে, বই মনের খোরাক জোগায়, মনে শান্তি আনয়ন করে, নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম দেয়, মানুষকে বিবেকবান করে গড়ে তোলে, ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায় বলে বিবেচনা করতে শেখায়। নিজেকে চিনতে, নিজেকে জানতে অতন্ত্র প্রহরির মতো সর্বদা ছায়া হয়ে পেছনে লেগে থাকে বই, এমন বইই পারে জীবনকে বিকশিত করতে, জীবনকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছিয়ে দিতে। 

                                    কবির ভাষায় তাই বলতে হয় - বইয়ের পাতায় প্রদীপ জ্বলে
                                                                       বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে।

জ্ঞান অর্জন, জ্ঞানকে বর্ধিককরণ, বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অন্যতম উপায় হলো বই। বই বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচিত হয়। সব বই পড়া সম্ভব নয়। তবে ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিক্ষা, গবেষণা, দর্শন, সমাজনীতি, রাজনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা, শিল্প-সাহিত্য ও আইন বিষয়ক বই পড়া উচিৎ। একটি দেশকে, একটি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অতীতকে জানতে, জ্ঞানের পরিধি বাড়তে, মনের জানালকে প্রসারিত করতে, মনের আকুতিকে পৃথিবীর প্রান্তরে পৌঁছে দিতে,  জীবনে সার্থকতার স্বপ্ন রূপায়ন করতে তথ্যনির্ভর ভালো বই পড়া দরকার। তবেই জীবন সার্থক ও সুন্দর হবে। এই মিছিলের কাতারে আমাদেরকে শরীক হতে হবে। এই হোক নতুন প্রজন্মে প্রত্যাশা। 
 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ