হোম সাহিত্য ও সংস্কৃতি শিশুর শিক্ষা বিকাশে অভিভাবকের ভূমিকা কি হওয়া উচিৎ!

শিশুর শিক্ষা বিকাশে অভিভাবকের ভূমিকা কি হওয়া উচিৎ!

মোহাম্মদ হারুন মিয়া || সহকারী পরিচালক ( UGC ) 27 Feb, 2021 11:31 AM

শিশুর-শিক্ষা-বিকাশে-অভিভাবকের-ভূমিকা-কি-হওয়া--উচিৎ-2021-02-27-6039daba0cc37.png

শিশু পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। একটি পরিবারে শিশুর আগমন অত্যন্ত আনন্দের - যদিও সেই শিশুটি ছেলে কিংবা মেয়ে শিশু। জন্মগ্রহণের পর শিশুর শিক্ষা বিকাশে অভিভাবকের চিন্তার কোনো অন্ত থাকে না। অভিভাবককে সব সময় উদ্বিঘ্ন থাকতে হয় শিশুর ভবিষ্যৎ ও শিশুর শিক্ষা বিকাশের নানা দিক নিয়ে। গৃহ পরিবেশেই শিশু বিভিন্ন আচার-আচরণ শিক্ষা লাভ করে এবং বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্কের সাথে পরিচিতি লাভ করে। 

শিশুর শিক্ষা বিকাশে পরিবারকে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। পরিবার যদি এক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে শিশুর শিক্ষা বিকাশে বাধাগ্রস্ত হয়। শিশুর জীবনে শিক্ষার সূত্রপাত পরিবারেই হয়ে থাকে। মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী ও অন্যান্য স্বজনদের কাছ থেকে শিশু সচেতন বা অসচেতনভাবে অনেক কিছু শিখে। পরিবারের এই শিক্ষার  উপর শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষা, জীবনের সফলতা কিংবা বিফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। সেই জন্য শিশুর শিক্ষা বিকাশে অনুকূল পারিবারিক পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। শিশুর শিক্ষা বিকাশে অভিভাবককে যে সকল ভূমিকা পালন করতে হয় সে সম্পর্কে নিচে কিছুটা আলোকপাত করা হলো :

১. রুটিন অনুযায়ী পড়াশুনা করানো:

জীবন চলমান। চলমান জীবনে থেমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য একটি নিয়মের ফ্রেমে আসতেই হয়। আর এই ফ্রেম হলো জীবনের রুটিন, পড়াশুনার রুটিন। ছাত্র জীবনে এই রুটিনের গুরুত্ব সব সময় বেশি। শিশুর ঘুম থেকে উঠা, ঘুমাতে যাওয়া, স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা, পড়াশুনা করা, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি একটি রুটিনের আওতায় নিয়ে আসুন। রুটিন মাফিক উপরোক্ত কাজগুলো করাতে পারলে ফল ভালো হবে। এই নিয়মাবলী জীবনে শৃঙ্খলতা আনয়ন করবে। বাড়তি চাপ থেকে মুক্ত রাখবে এবং ভবিষ্যতে সুন্দর জীবনযাপন অভ্যাসের ফ্রেমে চলে আসবে। জীবন প্রতিষ্ঠিত হবে, জীবনে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য চলে আসবে। 

২. পড়াশুনায় মনোযোগি করে তুলুন:

যে কোনো কাজে মনোযোগের গুরুত্বই আলাদা। পড়াশুনার ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি জরুরি। শিশুরা পড়াশুনার সময় খেলা, কার্টুন ও সিনেমা অথবা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে পড়াশুনায় মনোযোগ আসবে না। এই সময় অন্য কাজের কথা একদম ভুলে যেতে হবে। শিশুর পড়াশুনা সময় এই বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখুন। আর যতোক্ষণ পড়াশুনা করবে, ততোক্ষণ মনোযোগের সহিত করবে। পড়াশুনার সময় পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে যতোটা সম্ভব মজার মজার উপমা, গল্প করুন। এতে শিশু উৎসাহিত হবে এবং পড়াশুনায় মনোনিবেশ করবে। পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা করা। এই সময় অন্য সব মানা সম্পর্কে শিশুকে শিক্ষা দিতে হবে।

৩. পড়াশুনার পরিবেশ তৈরি করুন:

যে কোনো ক্ষেত্রেই পরিবেশের অবদান অনস্বীকার্য। পড়াশুনার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা আরো বেশি। শিশু যে ঘরে পড়াশুনা করবে, সে ঘরটি হতে হবে সাজানো-গোছানো, পরিপাটি, আলোময় ও সুন্দর। ঘরে যাতে অনায়াসে বাতাস প্রবেশ করে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। পড়ার প্রয়োজনীয় উপকরণ বই-খাতা, পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্সসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণাদি শিশুর হাতের কাছে রাখুন। পড়াশুনার ঘরটি হবে সব সময় কোলাহল মুক্ত রাখলে শিশু মনোযোগের সহিত পড়াশুনা করবে। এতে শিশুর উপকার হবে প্রত্যাশা অনুযায়ী।

৪. স্বাস্থ্য সচেতন করে গড়ে তুলুন:

শিশুকে ছোটবেলা হতে স্বাস্থ্য সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যের পরিচর্যা, স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা উপমা, কথাবার্তা স্বাস্থ্য সচেতন না হলে নানা রকম অসুবিধা হতে পারে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে শিশুকে শিশুকাল হতে জানান দিতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার বিষয়েও শিশুকে সচেতন করতে হবে। পড়াশুনার চাপে অনেক শিশু ঠিকমত খেতে চায় না। না খেলে শরীর খারাপ হবে, পড়াশুনা ঠিকমত করতে পারবে না। বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিভাবকের খেয়াল রাখতে হবে এবং উক্ত  বিষয়গুলো নিয়ে শিশুর সাথে আলোপচারিতায় লিপ্ত হতে হবে। যাতে শিশু নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

৫. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে অবহিত করুন:    

মানব জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কোনে অংশেই কম নয়। শিশুকাল হতে শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জানান দিতে হবে। ফলে ছেলেশিশু নিজের জামা-কাপড়, জুতা, মোজা, পেন্ট, শার্ট এবং মেয়েশিশু সেলুয়ার, কামিজ, পায়জামা, উড়না, বেল্ট ইত্যাদি পরিধেয় জিনিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। পরিষ্কার জামাকাপড় পরে স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শিশুকাল হতে এই অভ্যাস গঠন করতে পারলে ভবিষ্যতে আর কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না তাকে। তাছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ইসলাম ধর্মে ঈমানের অর্ধাংশ বলা হয়েছে। এই বিষয় সম্পর্কে শিশুকে শিশুকাল হতে শিক্ষা দিন। এতে শিশুর জীবন সার্থক ও সুন্দর হবে।  

৬. নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা:

নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা শিশুকে ছোটবেলা হতে দিতে হবে। সদা সত্য কথা বলবে, কখনো মিথ্যা কথা বলবে না এমন শিক্ষা দিতে হবে। মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ, মিথ্যা কথা বললে আল্লাহ পাপ দেন এই উপদেশ প্রদান করুন। বাবা-মাসহ গুরুজনকে ভক্তির কায়দা কানুনের বিষয়ে জানান দিন। ধর্মীয় রীতিনীতিতে বিশ্বাস স্থাপনের চেষ্টা করুন এবং এই মোতাবেক চলতে উৎসাহিত করুন। ফল ভালো হবে নিশ্চয়। শিশুকাল হতে নৈতিক ও ধর্মীয় রীতিতে বিশ্বাস স্থাপিত হলে শিশু পথভ্রষ্ট হবে না সহজে। ফলে জীবন হবে উজ্জ্বলতম। 

৭. সন্তানের জন্য সময় বরাদ্দ রাখা:

সময় অত্যন্ত মূল্যবান। সময় তার আপন গতিতে চলতেই থাকে। বর্তমানে মানুষ যান্ত্রিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। ফলে কারে হাতে সময় নেই। জানি কারো হাতে সময় নেই। না থাকা সময় থেকেই  সন্তানের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিতে হবে। ভালো ভালো উপদেশ দিন তাকে। শিশুকে বকাবকি ও মারধর করবেন না, মারধর করলে শিশু হিতে বিপরীত হতে পারে, বখে যেতে পারে। আর একবার বখে গেলে শতবার চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হবে না। কাজেই পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন। ক্ষেত্র বিশেষে ওকে দিন পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় লিপ্ত হোক। এতে অভিভাবককের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপিত হবে।

৮. মনীষীদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করুন: 

পৃৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় ও প্রতিষ্ঠিত মনীষীদের জীবনী, তাঁদের উত্থান-পতন, ধর্মীয় দৃষ্টভঙ্গিতে তাঁরা কেমন সাধনা করেছেন, জীবনে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এই সব সম্পর্কে শিশুদের ছোটবেলা হতেই জানালে তারা পথভ্রষ্ট হবে না। বিখ্যাত মনীষীদের জীবনী শিক্ষার্থীর পড়াশুনা ফাঁকে ফাঁকে পাঠ করে শুনালে শিশুরা উৎসাহ পায়, উদ্যমী হয় এবং নিজের জীবনে তা প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন বুকে লালন করে সাফল্যের শীর্ষে আরোহন করতে অনেকের পক্ষেই সক্ষম হয়েছে। 

৯. হাতের লেখা  দ্রুত করার অভ্যাস করুন: 

মানুষ সুন্দরের পূজারী। সুন্দরকে সবাই পছন্দ করে, ভালোবাসে। হাতের লেখার ক্ষেত্রে একথা সমভাবে প্রযোজ্য। হাতের লেখা একটি সৌখিন ও শৈল্পিক কাজ। সবার হাতের লেখা সুন্দর হয় না। সুন্দর হাতের লেখায় মানুষ মুগ্ধ হয়, মানুষের মন কাড়ে। হাতের লেখা সুন্দর করা একটি অভ্যাসের ব্যাপার। হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর হলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া যায়। শিশুদের মধ্যে এই অভ্যাস শিশুকাল হতেই গড়ে তোলা উচিত। অভিভাবককে এই বিষয়ে আরো সচেতন হলে ভালো হয়। 

১০. শব্দ করে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন:

পড়াশুনা জোরে জোরে শব্দ করে পড়া ভালো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন জোরে জোরে শব্দ করে পড়তেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন জোরে জোরে শব্দ করে পড়তে আমার ভালো লাগে এবং পড়াগুলো সহজে মনে থাকে। তাছাড়া জোরে জোরে শব্দ করে পড়লে শিক্ষার্থী কোনো শব্দ/বাক্য ভুল উচ্চারণ করলে অভিভাবক তা শুনে সঠিক উচ্চারণটি শিক্ষার্থীকে জানান দিতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীর বিস্তর উপকার হয়।  

১১. আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করুন:

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য বিস্ফোরণের যুগ। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ তথ্য প্রতিনিয়ত আবিষ্কৃত হচ্ছে। এই আবিষ্কৃত তথ্য সম্পর্কে শিশুদের জ্ঞান দান করতে হবে অভিভাবকদের। এই তথ্যগুলো ধারণ করে রাখার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির দারস্ত করাতে হবে শিশুদের। তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ছোঁয়া কম্পিউটার ও তার সরঞ্জামাদি সম্পর্কে শিশুদের সম্যক ধারণা পোষণ করতে হবে। এটি অভিভাবকের কাজ। এতে শিশুদের জ্ঞান অর্জিত হবে। অর্জিত জ্ঞান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ সেবায় শিশু নিজেকে আত্ম নিয়োগ করবে। এর সুবাতাস পড়বে দেশের অর্থনীতির উপরও। 

১২. বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখুন:

শিশুর পড়াশুনার পাশাপাশি বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা উচিত। বিশ্রামে শরীর ভালো থাকে আর বিনোদনে মন থাকে প্রফুল্ল। বিনোদনের জন্য টিভি, সিনেমা, কম্পিউটার সম্পর্কিত বিভিন্ন উপকরণ (ইমেইল, ফেকবুক, ওয়েবসাইড) এর ব্যবহার শেখাবেন। এতে জ্ঞান বাড়বে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে শিশু এই সব বিষয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে না যায়। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে এই পথ থেকে বের করে আনার কোনো উপায় থাকবে না। কাজেই অভিভাবক এ বিষয়ে শিশু মাঝে মধ্যে রক্তচক্ষুর শাসানিতে রাখতে হবে। বিশ্রাম ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলে উজ্জ্বীবিত হয়ে শিশু নব উদ্দীপনায় কাজে মনোনিবেশ করবে। 

১৩. পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখুন:

শিশুকে শুধু পড়াশুনার বিষয়ে চাপাচাপি করলেই চলবে না। শিশু যাতে ভালো ফলাফল করতে পারে সেই বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। শিশু খারাপ ফলাফল করলে যেমন তিরস্কার দেওয়া হয়, তেমনি ভালো ফলাফল করলে তাকে মাঝে মধ্যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার দেয়া হলে শিশু উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল অভিভাবককে উপহার দিবে। এই বিষয়ের প্রতি অভিভাবককে সতর্ক হতে হবে।

১৪. গৃহ শিক্ষকের উপর সার্বিক দায়িত্ব ছেড়ে না দেয়া:

আমাদের সমাজে অনেক অভিভাবক আছেন যারা নিজের শিশুর পড়াশুনার সার্বিক দায়িত্ব গৃহ শিক্ষকের উপর ছেড়ে দেন। এই কাজটি মোটেও ঠিক নয়। সার্বিক দায়িত্ব গৃহ শিক্ষকের উপর ছেড়ে না দিয়ে মাঝে মধ্যে শিশুর পড়াশুনার খোঁজ-খবর নেয়া অভিভাবকের কর্তব্য। শিশু কিভাবে পড়াশুনা করছে, কি কি পড়েছে, কতটুকু পড়েছে, কতটুকু পড়ার বাকি আছে, গৃহ শিক্ষক কিভাবে পড়াচ্ছে, শিক্ষকের পড়াশুনাতে তুমি সšু‘ষ্ট কিনা ইত্যাদি বিষয়ে শিশুর সাথে অভিভাবকের আলোচনা হতে পারে। এই আলোচনা অব্যাহত রাখলে শিশু যেমন পড়াশুনায় ফাঁকি দিতে পারবে না, তেমনি গৃহ শিক্ষকও। এই আলোচনায় শিশুর বিস্তর উপকার হবে। 

১৫. শিশুর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন:     

শিশুর সাথে অভিভাবকের সম্পর্ক হবে সুসম্পর্ক। খারাপ সম্পর্ক শিশুর কাম্য নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন শিশু মনে দাগ কাটে। এতে শিশু মানসিক ও শারীকিভাবে বিকশিত হতে পারে না। তাছাড়া শিশুর সাথে সব কিছু খোলামেলা আলোচনায় করতে হবে। শিশুর কাছে অভিভাবক হবেন কখনো শিক্ষক, কখনো বন্ধু, কখনো গাইড আবার কখনো ফিলোসুপার। সমাজে অনেক অভিভাবক আছেন যারা শিশুদের সাথে এইসব বিষয়ে শেয়ার করতে চান না, মিশতে চান না শিশুদের সাথে আপন মনে। 

১৬. শিশুকে ঘরকোণো  করে রাখবেন না:    

শিশুর সার্বিক খোঁজ-খবর রাখা দায়িত্ব অভিভাবকের। শিশু আপন মনে যা করতে চায়, তা তাকে করতে দেয়া উচিত। অনেক অভিভাবক আছেন শিশুর নিজের ইচ্ছেমতো কোনো কিছু করতে দিতে চান না। এতে শিশু একঘেয়েমী হয়ে যায়। অনেক অভিভাবক আবার শিশুকে ঘরকোণো করে রাখতে চায়। এতে করে কিন্তু শিশু সমাজের অন্যদের সাথে ভালোভাবে মিশতে/খেলতে পারে না। শিশুকে ঘনকোণো করে রাখলে এই শিশু একদিন বিপদের কারণ হতে পারে। সুতরাং শিশুকে ঘরকোণো করে না রেখে বরং তাকে উন্মুক্ত বিহঙ্গের চলাফেরা করার সুযোগ করে দিতে অভিভাবককে।

১৭. সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন:

সৎসঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ কথাটি নিতান্তই সত্য। আপনার আদরের সোনামণির  চলাফেরা, গতিবিধি, উঠা-বাস, সময় কাটানো, খেলাধুলা, আড্ডা ইত্যাদি কাদের সাথে, কোনো ধরণের ছেলেমেয়েদের সাথে করছে এই বিষয়ে অভিভাবককে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। খারাপ, দুষ্টু ছেলেমেয়েদের সাথে যাতে মেতে উঠতে না পারে এই দিকে ভীষণভাবে দৃষ্টি দিতে হবে অভিভাবককে। শিশু একবার যদি খারাপ পথে পা বাড়ায় তাহলে সে পথ থেকে আর কোনো দিন ফিরে আনা সম্ভব হবে না। কাজেরই খারাপ হওয়ার আগেই শিশুকে শাসন করুন, সুপথে রাখুন। কুপথ পরিহার করার পরামর্শ দান করুন। সৎ পথে থেকে এগিয়ে চললে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে কোনো বেগ পেতে হবে না তাকে। 

১৮. প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবেন না:

অনেক শিশু আছে ভালো পড়াশুনা করে ভালো ফলাফল বয়ে আনে। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে অনেক অভিভাবক শিশুদের সাথে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়ে বলেন তোমাকে এবার খুব ভালো একটি উপহার দিবো কিন্তু বাস্তবে তা করেন না। এটি কিন্তু ঠিক নয়। শিশুর সাথে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হলে তা যে কোনো উপায়েই হোক রক্ষা করা  উচিত। প্রতি ভঙ্গ করলে শিশুন মন খারাপ হয়। সচেতন অভিভাবকরা অবশ্য এই কাজটি করেন না।  

পরিশেষ:

শিশু আপনার। আপনার শিশুর ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আপনার। অভিভাবক হিসেবে আপনিই সিদ্ধান্ত নিবেন কিভাবে পড়াশুনা করলে শিশু ভালো ফলাফল করবে। ভালো ফলাফলের পেছনে শুধু শিশুর ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়, এতে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবককে। সচেতন অভিভাবকরা আগে থেকেই শিশুর মঙ্গল কামনায় এই কাজগুলো করে থাকেন। অপদার্থ অভিভাবকরা এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল না হওয়ায় তাদের শিশুরা ভালো পড়াশুনা ও উপযুক্ত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে না।  শিশুর মঙ্গল কামনায় অভিভাবকের চেয়ে উত্তম অন্য কেউ হতে পারে না। সুতরাং শিশুর শিক্ষা বিকাশে অভিভাবকের ভূমিকা সর্বাগ্রে, সবচেয়ে বেশি এই হোক আমাদের প্রত্যাশা। 


আরও :

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

আরও সংবাদ